চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য : মির্জা ফখরুল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য এবং একে সহজে কেউ ছিঁড়ে ফেলতে পারবে না। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতি আয়োজিত এক সেমিনারে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের উপস্থিতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।

অনলাইন প্রতিবেদক
বক্তব্য দিচ্ছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বক্তব্য দিচ্ছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর |নয়া দিগন্ত

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য, এটাকে সহজে কেউ কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলতে পারবে না।

আজ রাজধানীর একটি হোটেলে ‘লং লাইভ বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক সেমিনারে একথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব, কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং বহুমাত্রিক সহযোগিতার সম্পর্ককে আরো সুসংহত করার লক্ষ্যে এ সেমিনারে আয়োজন করে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের মতো দেশগুলো, যারা খুব কম শক্তিশালী- আমরা কিন্তু বাধ্য হয়ে তাদের দিকে যাচ্ছি; ফর ব্যবসা-বাণিজ্য, আমাদের সিকিউরিটি, সব প্রশ্নে আমরা যাচ্ছি। যে নেতৃত্ব প্রয়োজন এই বিশ্বে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে, সম্প্রসারণবাদের বিরুদ্ধে, চীনকে নেতৃত্ব দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা নিরাপদ বোধ করি, এখন চায়নার সাথে আমাদের সম্পর্ক দৃঢ় হলে। এ কথাটা আমি আবার বললাম, কেউ কিছু মনে করতে পারে, আই ডোন্ট মাইন্ড, বাট চায়নাকে আমাদের দরকার, চীনকে আমাদের দরকার।

বেগম খালেদা জিয়ার চীন সফর স্মৃতি মনে করে মির্জা ফখরুল বলেন, কিভাবে বলব এটাকে যে কাকতালীয় নাকি আপনার বিধাতার একটা ইচ্ছা, আমি জানি না। সেটা হচ্ছে যে ওই প্রচণ্ড শীত ছিল বাইরে, রিসেপশন করা সম্ভব ছিল না, গ্রেট হলে ব্যবস্থা হয়েছে। তো গ্রেট হলে রিসেপশনের সময় যখন ম্যাডাম চীনের প্রধানমন্ত্রীকে তার ডেলিগেশন মেম্বারদের পরিচয় দিচ্ছিলেন, ওই সময় পাশাপাশি দাঁড়িয়েছিলাম আমরা। আমার পাশেই আমাদের আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব ছিলেন। ম্যাডাম যখন পাশে এসে প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন যে ‘হিজ মাই সন তারেক রহমান’, চীনের প্রধানমন্ত্রী হাতটা শক্ত করে ধরলেন, বললেন, ‘ক্যারি দ্য ফ্ল্যাগ অফ ইয়োর ফাদার অ্যান্ড মাদার’। এটা আমি বুঝতে পারি সব, কারণ আজকে দেখুন সেই শহীদ জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের যে পতাকা, নিজের দেশকে তুলে ধরার যে পতাকা, উন্নয়নের যে পতাকা- সেই একই পতাকা কিন্তু দেশে খালেদা জিয়া বহন করেছেন এবং সেই ব্যক্তি তারেক রহমান আজকে এত সংগ্রাম, যুদ্ধ, লড়াই করে সেই পতাকা আবার ধরে রেখেছে। এটা সফলতা এটাই অর্জন।

বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় ও কৌশলগত সম্পর্ক বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন মির্জা ফখরুল। বলেন, স্বাধীনতার পর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর হাত ধরে যে ঐতিহাসিক ও নিবিড় সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের মধ্য দিয়ে তা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই দ্বিপক্ষীয় সম্ভাবনার সুফল ঘরে তুলতে দ্রুত চুক্তি ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রগুলোর বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

তিনি বলেন, চীন বর্তমানে একটি বিশাল ও শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ। গত ৫০ বছরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে চীনের যে অভাবনীয় ও ম্যাজিক্যাল উন্নয়ন হয়েছে, তার সুবিধা বাংলাদেশের নেয়া উচিত। দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের মধ্যে যে ৪ কোটি বেকার যুবক রয়েছে, তাদের উপযুক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হলে চীনের কারিগরি শিক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তি অত্যন্ত জরুরি।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে কেবল রাষ্ট্রীয় পর্যায়েই নয়, বরং বেসরকারি খাতেও দু’দেশের সম্পর্ক বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের তরুণরা এখন চীনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে এবং সেখান থেকে প্রযুক্তি এনে দেশে নতুন নতুন ব্যবসায়িক ক্ষেত্র তৈরি করছে। বিশেষ করে এগ্রো প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি, ওয়েস্ট টু এনার্জি বা বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং গ্রিন ও সোলার এনার্জির মতো প্রকল্পগুলোতে চীনের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাংলাদেশের আমদানি নির্ভরতা অনেক কমিয়ে আনবে।

বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে সবসময়ই চীনের সাথে স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক আরো দৃঢ় করার চেষ্টা করা হয়েছে।