মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে নিরবচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী

দেশের সমুদ্রসীমা, সামুদ্রিক সম্পদ এবং জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে নিরবচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী
মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে নিরবচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী |নয়া দিগন্ত

দেশের সমুদ্রসীমা, সামুদ্রিক সম্পদ এবং জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের সমুদ্রসীমায় অবস্থানরত জ্বালানিবাহী জাহাজসমূহের নিরাপত্তা বিধানেও বাংলাদেশ নৌবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একইসাথে দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতকরণ এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিয়মিতভাবে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে।

এ ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ হতে ‘জাটকা নিধন প্রতিরোধ কার্যক্রম-২০২৬’ এবং ১৫ এপ্রিল ২০২৬ হতে ‘বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিন সকল প্রকার মৎস্য আহরণ বন্ধ কার্যক্রম’ বাস্তবায়নে নিয়োজিত রয়েছে ।

‘জাটকা নিধন প্রতিরোধ কার্যক্রম-২০২৬’-এর আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, চাঁদপুর, খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও বরগুনাসহ দেশের মোট ৯টি জেলায় সমন্বিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

অভিযানের অংশ হিসেবে বরিশাল এলাকায় বানৌজা তিতাস টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। এছাড়াও অন্য জেলায় নৌবাহিনীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জাহাজ ও ঘাঁটি মোতায়েন রয়েছে।

অভিযান চলাকালীন অবৈধভাবে জাটকা আহরণ প্রতিরোধ এবং ৪৫ সেন্টিমিটার বা তারচেয়ে কম ব্যাস বা ফাঁস বিশিষ্ট নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, মশারি জাল, চায়না দুয়ারি জাল, সুতা জাল ও বাঁধা জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হচ্ছে।

আটককৃত অবৈধ জাল স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী ধ্বংস করা হচ্ছে। একইসাথে নদী ও উপকূলীয় এলাকার জেলেদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ ও সচেতন করা হচ্ছে।

উদ্ধারকৃত ২৩ সেন্টিমিটারের ছোট আকৃতির ইলিশ বা জাটকা মৎস্য অধিদফতরের প্রতিনিধির নিকট হস্তান্তর করা হয় ।

উল্লেখ্য, এ অভিযানে অদ্যাবধি প্রায় ৫১৪ কোটি ৬৮ লাখ ৯৩ হাজার ২১০ টাকা মূল্যের ৩ কোটি ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৭০৫ মিটার অবৈধ জাল আটক করা হয়। এছাড়াও, বেহুন্দি, টং জাল, চায়না রিংসহ সর্বমোট ৮৬১ টি বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল এবং ৩৭ কেজি জাটকাসহ ০১ টি বোট জব্দ করা হয়।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এ অভিযান আগামী ১৫ মে ২০২৬ পর্যন্ত চলমান থাকবে।

অন্যদিকে দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতে গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬ হতে বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিন সকল প্রকার মৎস্য আহরণ বন্ধ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ০৩টি জাহাজ সমুদ্রে মোতায়েন রয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে সকল প্রকার মৎস্য নৌযান কর্তৃক যে-কোনো প্রজাতির মাছ আহরণ বন্ধে নৌবাহিনীর জাহাজ ও ক্রাফট নিয়মিত টহল পরিচালনার পাশাপাশি প্রয়োজন সাপেক্ষে মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফটের মাধ্যমে নিয়মিত এয়ার সার্ভেইল্যান্স পরিচালনা করছে, যাতে দেশী বা বিদেশী কোনো নৌযান নিষিদ্ধ সময়ে মাছ আহরণ করতে না পারে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনী ১৪ এপ্রিল ২০২৬-এর মধ্যেই সমুদ্রে মাছ ধরায় নিয়োজিত সকল নৌযান, ট্রলার ও ফিশিং বোটের উপকূলে ফিরে আসা নিশ্চিত করেছে। এ বিষয়ে জেলেদেরও সচেতন করা হয়েছে এবং তারা নৌবাহিনীকে সহযোগিতা করছে। তারপরও নিষিদ্ধ সময়ে কোনো নৌযান যাতে সমুদ্রে মাছ ধরতে না পারে, সে লক্ষ্যে নৌবাহিনীর জাহাজসমূহ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

গভীর সমুদ্রে দেশী-বিদেশী অবৈধ মৎস্য শিকারিদের অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে নৌবাহিনীর জাহাজ, ক্রাফট, বোট এবং অত্যাধুনিক মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফটের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, এ অভিযানে আজ পর্যন্ত আনুমানিক ২৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ২৩ হাজার ৫০০ মিটার অবৈধ জাল এবং বেহুন্দি, টং জাল, চায়না রিংসহ সর্বমোট ৪১ টি বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল আটক করা হয়। সরকার ঘোষিত ‘৫৮ দিন সকল প্রকার মৎস্য আহরণ বন্ধ কার্যক্রম’ আগামী ১১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চলমান থাকবে।

এছাড়াও, দেশের মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী গত ১ জানুয়ারি হতে ২৩ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত দেশের ১৬টি উপকূলীয় জেলায় ‘বিশেষ কম্বিং অপারেশন-২০২৬’ পরিচালনা করে।

এ অভিযানে প্রায় ১৫৮ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ০২ কোটি ২৬ লাখ ৫৪ হাজার ১৬০ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। পাশাপাশি ২৩৫৭ টি নিষিদ্ধ জাল, ৫টি বোট এবং ৯০৩ কেজি জাটকা উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত বোট স্থানীয় থানায় হস্তান্তর, জব্দকৃত অবৈধ জাল স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে ধ্বংস এবং জাটকা স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। নৌবাহিনীর এ ধরনের কার্যক্রম জাতীয় সম্পদ ইলিশ-সহ দেশের সামগ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।