সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে পুলিশ ও কোস্ট গার্ড : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের সমুদ্রসীমা, উপকূলীয় অঞ্চল ও সুন্দরবনের নিরাপত্তা রক্ষা, জলদস্যুতা ও বনদস্যুতা দমন এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে সুন্দরবনের দুর্গম নদী ও খালপথে অপরাধ দমন এবং বনজীবী ও জেলেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোস্ট গার্ড নিয়মিত টহল, নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ |বাসস

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতসহ মাছ ধরা জেলে, সুন্দরবন কেন্দ্রিক বিভিন্ন পেশাজীবী এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ পুলিশ, কোস্ট গার্ড, বর্ডার গার্ড এবং বন বিভাগ সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, জলদস্যু ও বনদস্যু দমনে র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, স্থানীয় প্রশাসন এবং বন বিভাগের সাথে নৌ-পুলিশ সমন্বয় করে ‘রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ বিশেষ অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করে আসছে। সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সমন্বিত টহল কার্যক্রম আরো জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খানের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সুন্দরবন এবং সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত, বনদস্যু-জলদস্যু দমন, বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং চোরাচালান প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদা তৎপর রয়েছে।

তিনি জানান, ‘জলপথে সমন্বিত যৌথ টহল জোরদার করতে বিজিবিকে আধুনিক হাই-স্পিড পেট্রোল বোট, ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট, মেটাল শার্ক বোট এবং রাডার নজরদারি সিস্টেমে সজ্জিত করা হয়েছে।’

সুন্দরবনের সংবেদনশীল নদী ও মোহনা দিয়ে যাতে কোনো প্রকার মাদক, অস্ত্র বা বন্যপ্রাণী চোরাচালান হতে না পারে সেজন্য প্রতিটি সংবেদনশীল পয়েন্টে ২৪ ঘণ্টা বিজিবি কর্তৃক যৌথ ব্লক রেইড ও মোবাইল টহল পরিচালিত হচ্ছে।

বিজিবির সমন্বিত গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের সমুদ্রসীমা, উপকূলীয় অঞ্চল ও সুন্দরবনের নিরাপত্তা রক্ষা, জলদস্যুতা ও বনদস্যুতা দমন এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে সুন্দরবনের দুর্গম নদী ও খালপথে অপরাধ দমন এবং বনজীবী ও জেলেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোস্ট গার্ড নিয়মিত টহল, নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করছে।

এ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় সুন্দরবনকে নিরাপদ, সুরক্ষিত ও দস্যুমুক্ত রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড-এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বন বিভাগের সাথে যৌথ অভিযান ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ এবং ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ পরিচালনা করা হচ্ছে।

এর মাধ্যমে কোস্ট গার্ড সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে। ফলে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার পারস্পরিক সমন্বয় ও সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা আরো সুদৃঢ় এবং অপরাধমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র : বাসস