বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সংসদে বলেছেন, দেশীয় কাঁচা চামড়া থেকে উৎপাদিত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানির মাধ্যমে বছরে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে উৎপাদিত কাঁচা চামড়া থেকে তৈরি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানির মাধ্যমে বছরে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।’
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধির অধীনে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের বিরোধীদলীয় সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ তার চামড়া শিল্পের সম্ভাবনার মাত্র ০ দশমিক ২৬ শতাংশ কাজে লাগাতে পারছে। দীর্ঘদিনের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করা গেলে উৎপাদন ও রফতানি ১২ থেকে ১৪ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।
তিনি বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে বিদেশী ক্রেতাদের কমপ্লায়েন্স বা পরিবেশগত ও মান-সংক্রান্ত শর্ত কঠোর না থাকায় দেশের নন-কমপ্লায়েন্ট ট্যানারিগুলোও কাঁচা চামড়া রফতানি করতে পারত। কিন্তু বর্তমানে কমপ্লায়েন্স একটি প্রধান শর্তে পরিণত হওয়ায় কাঁচা চামড়া রফতানি মারাত্মক সঙ্কটে পড়েছে।
মন্ত্রী বলেন, সাভার চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) দক্ষ পেশাদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমবর্ধমান কমপ্লায়েন্স মানদণ্ডের সাথে তাল মিলিয়ে চলা বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের কাজ এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি, কারণ সেখানে গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত অবকাঠামো এখনো কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে না।
মুক্তাদির বলেন, এসব মানদণ্ড পূরণে সরকার সিইটিপিকে পুরোপুরি কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি জানান, ২৫ হাজার ঘনফুট পানি পরিশোধনের সক্ষমতা নিয়ে সিইটিপি স্থাপন করা হলেও বর্তমানে এটি ১৪ হাজার ঘনফুটের বেশি পানি পরিশোধন করতে সক্ষম নয়।
স্থানীয় চামড়া শিল্পকে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করতে সরকার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেবে। পাশাপাশি, ট্যানারিগুলোতে ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) স্থাপন এবং লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি) সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, রফতানি আয়ের দিক থেকে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত হলেও এলডব্লিউজি সনদের অভাবে সাভার চামড়া শিল্পনগরীর কারখানাগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর কাছে চামড়াজাত পণ্য রফতানি করতে পারছে না।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রধান আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর কাছে চামড়া রফতানির জন্য এলডব্লিউজি সনদ একটি বাধ্যতামূলক শর্ত। এই নিরীক্ষায় পরিবেশগত মান প্রতিপালন, রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা এবং পণ্যের উৎস শনাক্তযোগ্যতা মূল্যায়ন করা হয়। ফলে প্রিমিয়াম বাজারে প্রবেশের জন্য এ সনদ অর্জন বাংলাদেশের রফতানিকারকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রী বলেন, দেশের চামড়া রফতানি ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী। ২০০৯-১০ অর্থবছরে চামড়া রফতানি থেকে আয় ছিল ২২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার, যা পাঁচ বছর পর বেড়ে ৪০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। কিন্তু এরপর থেকে রফতানি দ্রুত কমতে শুরু করে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা নেমে আসে ১৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আরো কমে দাঁড়ায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ডলারে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে চামড়া রফতানি হয়েছে মাত্র নয় কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের। বাসস



