কৃষিমন্ত্রী

রাজধানীর গাবতলীর ভিএইচটি সেন্টারে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু হচ্ছে

‘রফতানির প্রশ্নে আমরা ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করছি। মঙ্গলবার থেকে এখানে পণ্য আসবে, ওয়াশ হবে, প্যাকিং হবে এবং এখানেই কোয়ারেন্টাইন সম্পন্ন করে সরাসরি রফতানির জন্য পাঠানো যাবে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বক্তব্য দেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ
বক্তব্য দেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ |সংগৃহীত

কৃষিপণ্য রফতানির সব ধরনের প্রক্রিয়া এক জায়গা থেকে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে রাজধানীর গাবতলীতে ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট (ভিএইচটি) সেন্টারে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) থেকেই কোয়ারেন্টাইন অফিস চালু হচ্ছে। এর ফলে রফতানিকারকেরা একই স্থানে পণ্য শোধনাগার, প্যাকিং এবং কোয়ারেন্টাইন সম্পন্ন করে সরাসরি বিমানবন্দরে পাঠাতে পারবেন।

সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর গাবতলীতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) স্থাপিত ভিএইচটি সেন্টারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এসব কথা জানান। এর আগে, মন্ত্রী এই ভিএইচটি সেন্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, রফতানির প্রশ্নে আমরা ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করছি। মঙ্গলবার থেকে এখানে পণ্য আসবে, ওয়াশ হবে, প্যাকিং হবে এবং এখানেই কোয়ারেন্টাইন সম্পন্ন করে সরাসরি রফতানির জন্য পাঠানো যাবে।

মন্ত্রী জানান, রফতানিকৃত ফল বিমানবন্দরে সংরক্ষণের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্বল্পমেয়াদি সংরক্ষণাগার (টেম্পারেচার কন্ট্রোলড স্টোরেজ) স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর ফলে আমসহ দ্রুত পচনশীল কৃষিপণ্যের গুণগত মান অক্ষুণ্ন থাকবে।

আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের কাঁঠাল আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং পরীক্ষামূলকভাবে কিছু কাঁঠাল নিয়েছে। এছাড়া জাপান, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশ থেকে আম আমদানিতে আগ্রহী। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য বিশ্বমানের প্যাকিং ও কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ২৬ লাখ টন আম উৎপাদিত হয়। উৎপাদন বাড়লেও অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক কৃষক কাঙ্ক্ষিত দাম পান না। তাই রফতানি বাড়ানোই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

বিমান ভাড়া প্রসঙ্গে কৃষি মন্ত্রী বলেন, রফতানির খরচ কমাতে বাংলাদেশ বিমানের সাথে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের সাথেও কার্গো সুবিধা বাড়ানো এবং আগাম কার্গো স্পেস সংরক্ষণের বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, শুধু আম নয়, লিচু, কাঁঠাল, বরই, টমেটো, পেঁপে, মিষ্টি আলু-সহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যও এই ভিএইচটি সেন্টারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে রফতানি করা সম্ভব হবে।

কৃষিপণ্য সংরক্ষণে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সারাদেশে কয়েক হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সারা বছর ভোক্তাদের স্থিতিশীল দামে কৃষিপণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

রফতানিকারকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বিদেশী ক্রেতাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি শতভাগ রক্ষা করতে হবে। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে আস্থা অর্জনই বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রফতানি বৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি। সরকার কৃষিপণ্য রফতানিতে সব ধরনের সহায়তা দেবে উল্লেখ করে তিনি গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে ইতিবাচক প্রচারের মাধ্যমে কৃষকদের উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।

কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাসস