ফ্যাসিস্ট আমলে এমন বিচারক নিয়োগ হয়েছে, যাতে বিচার বিভাগ কলঙ্কিত হয়েছে : আইনমন্ত্রী

আসুন, কোন কোন জায়গায় রোগ আছে, সেটা ডিটেক্ট করি। আসুন, প্রপার ডায়াগনোসিস করি। তারপরে আসুন ওষুধ দেই। আমরা সেই পথ ধরে এগিয়ে যাই। তা না করে যদি আমরা কথায় কথায় এখন বিরোধিতা করি, আর পিছনে বসে ফ্যাসিস্টরা হাতে তালি দিচ্ছে। আপনারা সঠিক পথে আসেন। আমরাও বেঠিক হতে পারি। আমরাও সঠিক পথে আসতে চাই। আমরাও ভুল করতে পারি। আমরা সঠিক পথে আসতে চাই। আসেন দুই পক্ষের ভুল সঠিক কথা এক টেবিলে বসে আমরা আলোচনা করে সমাধান করি ৷

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান
আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান |বাসস

আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান বলেছেন, গত ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট আমলে সুপ্রিম কোর্টে এমন (বিচারক) নিয়োগ হয়েছে যে পার্টি ক্যাডারদের বসিয়ে দেয়া হয়েছে। যে নিয়োগের মাধ্যমে বিচার বিভাগকে কলঙ্কিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা চাই, সুপ্রিম কোর্টে ভালো বিচার হোক। সুপ্রিম কোর্ট মানুষের ন্যায় বিচারের আস্থার জায়গা হয়ে উঠুক এবং বাংলাদেশের বিচার বিভাগ পৃথিবীর ইতিহাসে অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করুক। আমরা চাই, এই বিচার বিভাগ স্বচ্ছ, স্বাধীন ও সক্রিয়তায় ভরপুর হোক।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫ রহিতকরণকল্পে আনীত সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬ পাস করার সময় বিরোধিতা করে রংপুর ৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের বক্তব্যের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের নিয়োগের ক্ষেত্রে এমন নিয়োগ হয়েছে অতীতে, বিশেষ করে গত ১৭ বছরের মধ্যে ফ্যাসিস্ট আমলে। যে নিয়োগে পার্টি ক্যাডারদের বসিয়ে দেয়া হয়েছে। যে নিয়োগের মাধ্যমে বিচার বিভাগকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। যে নিয়োগের মাধ্যমে খায়রুল হকের জন্ম হয়েছে। যে নিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের হৃদপিণ্ড প্রধান বিচারপতির বাড়িতে আক্রমণের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।’

মো: আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা চাই নিয়োগ প্রক্রিয়াটা আরো স্বচ্ছ হোক। সুপ্রিম কোর্টে ভালো বিচার হোক। সুপ্রিম কোর্ট মানুষের ন্যায় বিচারের আস্থার জায়গা হয়ে উঠুক। বাংলাদেশের বিচার বিভাগ পৃথিবীর ইতিহাসে অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করুক, সেটা চাই।

তিনি বলেন, এ আইনটির যে ডিফেক্টটা আছে, সেটা আমি বলব। উনি বলেছেন আমি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসাবে ওই সময় এই আইনকে ডিফেন্ড করেছি। একজন রাষ্ট্রের আইনজীবী সরকারের ব্রিফ ক্যারি করেন। ইন্সট্রাকশন ফলো করেন। আমি যখন কথা বলি, আদালতে অ্যাটর্নি হিসেবে তখন সরকারের কথা বলি। সরকার আমার মক্কেল। মক্কেলের কথা বলি। আমি আমার মক্কেলের পক্ষে কথা বলেছি।

তিনি আরো বলেন, প্রত্যেকটা ল’ হলো একটা পাবলিক পলিসি। ওই সরকারের পাবলিক পলিসি ছিল। এই অধ্যাদেশ জারি করা সেই পাবলিক পলিসি সরকারের। আমার মক্কেলের পক্ষে কথা বলেছি।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, আমি এখন এই সরকারের মন্ত্রী এবং এই পার্লামেন্টের সংসদ সদস্য। আমার সরকারের পাবলিক পলিসি হলো, বিচার বিভাগে নিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্ণরূপে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও যোগ্যতার মানদণ্ড নিরূপণের জন্য আমরা নতুন করে পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

তিনি বলেন, আমরা বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় আইন প্রণয়ন করব। আমরা সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি করতে চাচ্ছি। আমরা সেই কমিটির কাছে ফিরে যাই। সেই কমিটির কাছে গিয়ে আপনি যে আইনটির কথা বলছেন, আপনি বিচারক নিয়োগের যে স্বচ্ছতার কথা বলছেন, আপনি যে মানদণ্ডের বিচারক চান, যে সুপ্রিম কোর্ট চান, যে বিচার বিভাগের মানদণ্ড চান, যে বিচারালয় চান, আমরাও সেই বিচারালয় চাই। আমরা চাই না যে বাংলাদেশে আর কোনো মানিকের জন্ম হোক। আমরা চাই না বাংলাদেশে আর কোনো খাইরুল হক গোজিয় উঠুক। আমরা চাই না আর কোনো বিচার বিভাগীয় কিলিং হোক।

আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই, এই বিচার বিভাগ স্বচ্ছ স্বাধীন সক্রিয়তায় ভরপুর হোক। আমরা চাই, রাষ্ট্রের তিন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় থাক। আমরা চাই, যার যার ফাংশন সেই সেই করুক। আমরা চাই, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেয়া রক্তের ঋণ পরিশোধ করতে, সেই রক্তের ঋণ পরিশোধ করতে গেলেই আমাদের সঠিক পথে যেতে হলে একটি সাংবিধানিক কমিটি গঠন করে আসেন চুলচেরা বিশ্লেষণ করি।

আইনমন্ত্রী বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, আসুন, কোন কোন জায়গায় রোগ আছে, সেটা ডিটেক্ট করি। আসুন, প্রপার ডায়াগনোসিস করি। তারপরে আসুন ওষুধ দেই। আমরা সেই পথ ধরে এগিয়ে যাই। তা না করে যদি আমরা কথায় কথায় এখন বিরোধিতা করি, আর পিছনে বসে ফ্যাসিস্টরা হাতে তালি দিচ্ছে। আপনারা সঠিক পথে আসেন। আমরাও বেঠিক হতে পারি। আমরাও সঠিক পথে আসতে চাই। আমরাও ভুল করতে পারি। আমরা সঠিক পথে আসতে চাই। আসেন দুই পক্ষের ভুল সঠিক কথা এক টেবিলে বসে আমরা আলোচনা করে সমাধান করি ৷

সূত্র : বাসস