জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) গত বছরের জুলাই আন্দোলনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত ২২৯ জনের মধ্যে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ৪০ শিক্ষার্থীকে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
অফিস আদেশে জানানো হয়, গত বছরের ১৪ জুলাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে, ১৫ জুলাই ১০ নম্বর (ছাত্র) হলের সামনে ও সেদিন রাতেই ভিসির বাসভবনে আশ্রয়প্রার্থী আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উপর পেট্রোলবোমা ও অস্ত্রসহ হামলার ঘটনা ঘটে। এছাড়া ১৭ জুলাই ২০২৪ তারিখে প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের উপস্থিতিতে হামলা ও ছররা গুলি ছোড়ার অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ তদন্তে অধিকতর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও ২ আগস্ট অনুষ্ঠিত ডিসিপ্লিন বোর্ডের সুপারিশ পর্যালোচনা করে যেসব শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়। এ সিদ্ধান্তটি ৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সিন্ডিকেট সভায় গৃহীত হয়। অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০ জন সাবেক ও বর্তমান ২০ শিক্ষার্থী রয়েছেন।
অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাবেক ২০ শিক্ষার্থী হলেন- নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ৪৭ ব্যাচের আব্দুল আহাদ, একই বিভাগের ৪৫ ব্যাচের মো: মুহিত হাসান ও রিফাত চৌধুরী, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৬ ব্যাচের জুবায়ের মাহমুদ, ইতিহাস বিভাগের ৪৭ ব্যাচের মেহেদী হাসান, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৪১ ব্যাচের রাসেল খন্দকার ও ৪৬ ব্যাচের রাজু শেখ, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ৪৩ ব্যাচের আবির হাসান, ৪৬ ব্যাচের ইমরান আহমেদ ও ৪৭ ব্যাচের ইফতেখার জামান, জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের মো: সাজিদুজ্জামান (স্বপ্ন জামান), পরিসংখ্যান ও উপাত্ত বিজ্ঞান বিভাগের ৪৪ ব্যাচের পরশ মনি সাহা ও ৪৬ ব্যাচের মো: মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, রসায়ন বিভাগের ৪৪ ব্যাচের সাদিয়া আফরিন, অর্থনীতি বিভাগ ৪৬ ব্যাচের বখতিয়ার ফাহিম তকী, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ৪১ ব্যাচের মো: তারেক হাসান রিন্টু, বাংলা বিভাগের ৪৩ ব্যাচের মো: সুজন মিয়া, ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৪৫ ব্যাচের বিকাশ চন্দ্র রায়, দর্শন বিভাগের ৪৩ ব্যাচের লায়েব আলী, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪৬ ব্যাচের হিমালয় রাজ পাল।
অন্যদিকে হামলায় অভিযুক্ত থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত বর্তমান শিক্ষার্থীরা হলেন- লোক প্রশাসন বিভাগের ৪৮ ব্যাচের পারভেজ শিকদার, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৮ ব্যাচের জুলহাস রাজিন, পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ৪৪ ব্যাচের মো: মাইদুল ইসলাম সিফাত, পরিসংখ্যান ও উপাত্ত বিজ্ঞান বিভাগের ৪৬ ব্যাচের খোকন আহমেদ, মার্কেটিং বিভাগের ৪৭ ব্যাচের মো: খালিদ সাইফুল্লাহ সিয়াম ও মো: মশিউর রহমান ভূঞা তানজিম, বাংলা বিভাগের ৪৭ ব্যাচের সোহানুর রহমান সৌরভ ও ৪৮ ব্যাচের ইমরান বশর, গণিত বিভাগের ৪৯ ব্যাচের নাজমুল হোসেন সাগর, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪৬ ব্যাচের মো: জাহিদ হাসান, ইংরেজি বিভাগের ৪৮ ব্যাচের মো: বাপ্পি হাসান, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ৪৮ ব্যাচের মো: শামসুদ্দোজা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৫০ ব্যাচের সায়েম হাসান সামি, ইতিহাস বিভাগের ৪৮ ব্যাচের মো: আতিক শাহরিয়ার মুন্না, অর্থনীতি বিভাগের ৪৮ ব্যাচের সজল আকন্দ, আইআইটির ৪৮ ব্যাচের সাবরিনা সিদ্দিকী অদিতি, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪৯ ব্যাচের আসিফুর রহমান, তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৫০ ব্যাচের শেখ নাজমুস সাকিব, ম্যানেজমেন্ট স্ট্যাডিজ বিভাগের ৪৭ ব্যাচের হারুন-অর-রশিদ, চারুকলা বিভাগের ৪৮ ব্যাচের মো: মোহতাসিম বিল্লাহ।



