ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় আজ ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি কে এম চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার নুসরাত হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়।
ওইদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির, মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবা তাসনিম আঁখি। আর আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একইসাথে প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদরাসার সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর, সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল ও মোহাম্মদ শামীম।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল নুসরাত জাহান রাফিকে তার মাদরাসার একটি কক্ষে নিয়ে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকায় নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।
নুসরাত হত্যার ঘটনায় তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে তদন্ত শেষে ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বিচারিক আদালত এ মামলায় ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন। এরপর নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলাটি হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পক্ষ থেকেও আপিল করা হয়। দীর্ঘ শুনানি ও যুক্তিতর্ক শেষে সোমবার হাইকোর্টে মামলাটির রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়।
বাদী পক্ষের আশা, বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায় বলবৎ রেখে এই হত্যাকাণ্ডের বিচারে সারাদেশে একটি নজির স্থাপন করা।
কারাবন্দি ১৬ আসামির পরিবার আশা করছেন, আপিল বিভাগের অপেক্ষমান রায়ের মাধ্যমে দোষীরা শাস্তি পাবে আর নিরাপরাধরা মুক্তি পাবে।



