নারী নির্যাতন মামলায় কণ্ঠশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেলকে গ্রেফতার করেছে ডেমরা থানা পুলিশ। এর পরেই তার বিরুদ্ধে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
নোবেলকে ডেমরা থানাধীন স্টাফ কোয়ার্টার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ডেমরা থানা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নোবেলের সাথে ভিকটিমের পরিচয় হয় এবং নোবেলের সাথে ভিকটিমের মাঝে মধ্যে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হতো। গত বছরের ১২ নভেম্বর নোবেল ভুক্তভোগীর সাথে মোহাম্মদপুর গিয়ে দেখা করেন এবং নোবেলের ডেমরার বাসার স্টুডিও দেখানোর উদ্দেশে বাসায় নিয়ে এসে আরো ২/৩ জন অজ্ঞাত সহযোগীর সহায়তায় নোবেলের বাসায় আটক রাখে। ঘটনার সময়ে নোবেল ভিকটিমের মোবাইল ভেঙ্গে ফেলে, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মারধর করে ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণপূর্বক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে মে মাসের ১৯ তারিখ ২০২৫ পর্যন্ত ভুক্তভোগীকে নোবেলের বাসায় আটক রাখে।
এ বিষয়ে ডেমরা থানার ওসি মাহমুদুর রহমান জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে একটি ফোন কল পেয়ে ডেমরার একটি বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে ওই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান নোবেল। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাত ২টার দিকে তাকে ডেমরা এলাকা থেকেই গ্রেফতার করা হয়।
নোবেল এসব নির্যাতনের ভিডিও নিজের মোবাইল ফোনে ধারণ করে তরুণীকে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিলেন বলেও জানান ওসি মাহমুদুর রহমান।
তিনি জানান, সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায়- নোবেল এক তরুণীকে চুল ধরে টেনেহিঁচড়ে সিঁড়ি দিয়ে নামিয়ে নিচ্ছেন। ভিডিওটি দেখে তরুণীর পরিবার তাকে শনাক্ত করেন এবং টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় এসে ৯৯৯-এ কল করেন।
পুলিশ জানায়, নোবেল সীমান্ত পেরিয়ে বিদেশে পালানোর পরিকল্পনা করছিলেন এবং এজন্য একটি মাইক্রোবাসও ভাড়া করেছিলেন। তবে পালানোর আগেই তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
নোবেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, নারী নির্যাতন এবং পর্নোগ্রাফি আইনে আলাদা দুটি মামলা করা হয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।



