গুলশানের একটি বাসায় সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির করার অভিযোগে করা মামলায় চারজনের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
তারা হলেন আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ (২৩), সাকাদাউন সাদাব (২২), সাদমান সাদাব (২১) ও ইব্রাহিম হোসেন (২৪)।
আজ রোববার তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাদের ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোখলেছুর রহমান। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিহাদুর রহমান তাদের প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতের স্টেনো টাইপিস্ট শরীফ মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগে বাদি সিদ্দিক আবু জাফর উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই গুলশানে তার বাসায় সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে আসামি আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ ও কাজী গৌরব অপু তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দিয়ে বাসায় অনধিকার প্রবেশ করে ৫০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার দাবি করে।
পরবর্তীতে তিনি তাদের দাবিকৃত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আসামিরা তাকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে গ্রেফতার করানোর হুমকি দিয়ে টাকা দেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে নিজের কাছে থাকা নগদ পাঁচ লাখ টাকা এবং তার ভাইয়ের কাছ থেকে নগদ পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে আসামি আব্দুর রাজ্জাক এবং কাজী গৌরব অপুকে প্রদান করা হয়েছে। গত ১৯ জুলাই আসামি আব্দুর রাজ্জাক ও কাজী গৌরব অপু আবারো তার বাসায় প্রবেশ করে ফ্ল্যাটের দরজায় সজোরে ধাক্কা মারে। তাৎক্ষণিকভাবে গুলশান থানা পুলিশকে মোবাইল ফোনে অবহিত করলে আসামিরা চলে যায়। পরবর্তীতে গতকাল ২৬ জুলাই আসামি আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদের নেতৃত্বে অপরাপর আসামিরা বাদির বাসার সামনে এসে তাকে খুঁজতে থাকে। তিনি বাসায় না থাকায় বাসার দারোয়ান মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিষয়টি তাকে জানায়। আসামিরা পুনরায় তাদের দাবিকৃত বাকি ৪০ লাখ টাকা দাবি করে, না হলে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দিবে বলে হুমকি দেয়।
এ ঘটনায় আজ রোববার সিদ্দিক আবু জাফর ছয়জনকে আসামি করে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজহারনামীয় আসামিরা হলেন আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ, কাজী গৌরব অপু, সাকাদাউন সাদাব, সাদমান সাদাব, ইব্রাহিম হোসেন ও আমিনুল ইসলাম।
সূত্র : বাসস



