সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেড এবং রাজউকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মোট ৪৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে এক নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কমিশনের মহাপরিচালক মো: আক্তার হোসেন এই তথ্য জানিয়েছেন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল, রোকেয়া বেগম নাসিমা, মাহির আলী খান রাতুল, ফরিদা বেগম ও আলী আকবর খান রতন। এছাড়া রূপায়ণের এস্টেট অফিসার সাজ্জাদ হুসাইনসহ রাজউকের উপ-নগর পরিকল্পনাবিদ কামরুল হাসান সোহাগ, মো: সিরাজুল ইসলাম, রেখাকার মো: আলমগীর কবীর এবং নকশাকার মো: এমদাদুল হক মুনসী।
দুদক জানায়, রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লি. অভিযোগকারীর সাথে ২০১৩ সালে ২.৫১ একর জমি নিয়ে বায়না ও সমঝোতা চুক্তি করলেও পরবর্তীতে চুক্তি অনুযায়ী জমির মূল্য পরিশোধ ও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন না করে মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা দায়ের করে। উক্ত মামলায় সংশ্লিষ্ট জমির ওপর আদালত স্থিতাবস্থা জারি করেন, যা এখনো বহাল রয়েছে।
এদিকে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও রূপায়ণ হাউজিংয়ের পক্ষে রাজউকে ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র, বিশেষ প্রকল্পের অনুমোদন এবং নকশা ও নির্মাণ অনুমোদনের আবেদন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, রাজউকের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী জমির মালিকানা, খতিয়ান, দাগ ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা যাচাই না করেই অবৈধভাবে এসব অনুমোদন প্রদান করেন।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, রূপায়ণ হাউজিং লি. মোট ৪১.৫৪৮ একর জমির ওপর পাঁচটি ফেইজে বিশেষ প্রকল্প ও নির্মাণ অনুমোদন নিলেও রাজউকে জমা দেয়া বৈধ কাগজপত্রের পরিমাণ মাত্র ১৬.৩২ একর। অবশিষ্ট জমির ক্ষেত্রে কোনো বৈধ মালিকানা দলিল পাওয়া যায়নি। এছাড়া, সরকারের ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত জমি ও ভাওয়াল এস্টেটের সম্পত্তিও অবৈধভাবে প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দুদক জানায়, ঢাকা মহানগর ইমারত (নির্মাণ, উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও অপসারণ) বিধিমালা, ২০০৮ লঙ্ঘন করে ভুল ও অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে বিশেষ প্রকল্পের ছাড়পত্র ও নির্মাণ অনুমোদন নেয়া হয়েছে। এতে সরকারের পাশাপাশি অভিযোগকারী ব্যক্তিরাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।



