সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে সিঙ্গাপুরে থাকা স্থাবর সম্পত্তি জব্দ ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ (অবরুদ্ধ) করার লক্ষ্যে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রাতিষ্ঠানিক অনুরোধপত্র পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো: শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। দুদকের উপ-পরিচালক ও তদন্ত দলের প্রধান মো: মোশিউর রহমান স্বাক্ষরিত আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এ নির্দেশ প্রদান করেন।
দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মো: তানজির আহমেদ এ আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে পেশ করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার সহযোগী ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদক, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সমন্বয়ে নয় সদস্যের একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
টাস্কফোর্সের অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিঙ্গাপুরে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের নামে আটটি ব্যাংক হিসাব, একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচালক পদ এবং দামি স্থাবর সম্পত্তির সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে।
দাফতরিক নথি অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের এসবিসি ব্যাংকে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামানের যৌথ নামে তিনটি সঞ্চয় ও বিনিয়োগ হিসাব রয়েছে। এ ছাড়া ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংক পিজেএসসি, সিটিব্যাংক (যুক্তরাষ্ট্র) এবং ডিবিএস ব্যাংকে বিভিন্ন হিসাব ও আমানতের তথ্য উঠে এসেছে। যার মধ্যে আরামিট প্রপার্টিজ লিমিটেড, জেডটিএস প্রপার্টিজ লিমিটেড এবং নিউ ভেঞ্চারস (লন্ডন) লিমিটেডের নামে বিনিয়োগও অন্তর্ভুক্ত।
আবেদনে আরো জানানো হয়, ‘জাসা ওশান পিটিই লিমিটেড’ (নিবন্ধন নম্বর: ২০১১০৩৮৬৯জি) নামের একটি সিঙ্গাপুরি প্রতিষ্ঠানে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ২০১১ সালের ১৫ মার্চ থেকে ২০১৯ সালের ৩ মে পর্যন্ত পরিচালক হিসেবে দায়বদ্ধ ছিলেন।
এছাড়া নথিতে সিঙ্গাপুরের ‘১০ সেন্ট থমাস ওয়াক, ৮, সেন্ট থমাস, ০৮-০৬, সিঙ্গাপুর ২৩৮১০২’ ঠিকানায় একটি অভিজাত স্থাবর সম্পত্তির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। ২০১৯ সালের ৭ জুন ১৬ লাখ ১২ হাজার সিঙ্গাপুর ডলারে কেনা এই সম্পত্তিটি সাইফুজ্জামান চৌধুরীর প্রত্যক্ষ মালিকানাধীন।
দুদক আবেদনে জোর দিয়ে জানায়, টাস্কফোর্স গোপন সূত্রে জানতে পেরেছে যে অভিযুক্তরা সিঙ্গাপুরে থাকা তাদের স্থাবর সম্পত্তি তড়িঘড়ি হস্তান্তর বা বিক্রির পাঁয়তারা করছেন। সম্পদ হস্তান্তরিত বা পাচার হয়ে গেলে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি সাধিত হবে।
এ অবস্থায় সিঙ্গাপুরে অবস্থিত ওই স্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও অস্থাবর ব্যাংক হিসাবগুলো অবিলম্বে ফ্রিজ করা জরুরি। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও আলামত সংগ্রহে ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা অনুরোধ’ (এমএলএআর)-এর আওতায় সিঙ্গাপুরের বিচারিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানোর অনুমতির প্রার্থনা জানালে আদালত তা মঞ্জুর করেন। বাসস



