শেখ হাসিনার স্ট্যাটাস জানে না বাংলাদেশ : ট্রাইব্যুনাল

ভারতের মেঘালয়ে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের আইনি প্রক্রিয়ার সাথে শেখ হাসিনার বিষয়ের তুলনা প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর স্পষ্ট করেন যে দু’টি ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। ২০১৫ সালে সালাহউদ্দিন আহমেদকে বাংলাদেশ থেকে অপহরণ করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং পরে শিলংয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা হলে আইনি লড়াই শেষে তিনি খালাস পেয়ে দেশে ফেরেন। অন্যদিকে, শেখ হাসিনার প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন।

নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল |ইন্টারনেট

ভারতে অবস্থানরত দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠিক কোনো আইনি স্ট্যাটাসে বা কী প্রক্রিয়ায় সেখানে আছেন, সে বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম।

সোমবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ট্রাইব্যুনাল ভবনের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শেখ হাসিনা বিচার প্রক্রিয়ায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের আবেদন জানিয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাকে ফেরানোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমে শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরে সে দেশের আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে; এমন খবর প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ওই প্রতিবেদনে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন কি না বা কী স্ট্যাটাসে রয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। ফলে ওই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না এবং সেখানে আদালতের অনুমতির বিষয়টি ঠিক কী অর্থে বলা হয়েছে, সেটিও পরিষ্কার নয়।

ভারতের মেঘালয়ে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের আইনি প্রক্রিয়ার সাথে শেখ হাসিনার বিষয়ের তুলনা প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর স্পষ্ট করেন যে দু’টি ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। ২০১৫ সালে সালাহউদ্দিন আহমেদকে বাংলাদেশ থেকে অপহরণ করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং পরে শিলংয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা হলে আইনি লড়াই শেষে তিনি খালাস পেয়ে দেশে ফেরেন। অন্যদিকে, শেখ হাসিনার প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন।

একই দিনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকার অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে আসামিদের ভূমিকার কারণে প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। এই অপরাধের দায় আসামিদেরই নিতে হবে এবং ট্রাইব্যুনাল তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেবেন বলে প্রসিকিউশন দল আশাবাদ ব্যক্ত করে।