রাজধানীর কল্যাণপুরের ‘জাহাজ বাড়িতে’ কথিত জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের নামে নয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি আগামী ৬ এপ্রিল।
রোববার (৮ মার্চ) বিচারপতি মো: গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শুনানির এই দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালে আজ প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।
গত ২৯ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়ে পলাতক ছয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল-১। পরে হাসিনাসহ পলাতক ছয় আসামিকে আত্মসমর্পণ করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয়া হয়।
এই মামলায় গ্রেফতার দুই আসামি হলেন- সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক ও ডিএমপির সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। আর ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিরা হচ্ছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, তৎকালীন সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণ পদ রায় ও তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন।
২০১৬ সালের ২৫ জুলাই কল্যাণপুরের ‘জাহাজ বাড়ি’ নামক বাড়িতে ৯ জনকে আটকে রেখে কথিত জঙ্গি নিধন অভিযানের নামে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ করা হয়। এই অভিযোগের পর তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা জানতে পেরেছে ওই ৯ তরুণকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের কেউ কেউ দুই-তিন মাস ধরে ডিবি হেফাজতে ছিলেন। পরে তাদের ওই বাড়িতে জড়ো করা হয়। ঘটনার রাতে ‘ব্লক রেইড’-এর কথা বলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে হাজির হন। গুলি করে হত্যার পর তারা বিষয়টিকে ‘জঙ্গি হত্যা’ হিসেবে প্রচার করেন।
সূত্র : বাসস



