সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা: দীপু মনিকে জুলাই-আগস্টের সহিংসতা ও হত্যা সংক্রান্ত পাঁচটি মামলায় কেন জামিন দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সাথে এসব মামলায় তাকে কেন স্থায়ী জামিন দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন দীপু মনির পক্ষে শুনানি করা সিনিয়র আইনজীবী রমজান আলী শিকদার।
আইনজীবী জানান, এজাহারে সুনির্দিষ্ট নাম না থাকা, প্রাথমিক তথ্যের সত্যতা এবং মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট এসব মামলায় রুল জারি করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিনের আর্জি বিবেচনায় নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট পক্ষকে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেন।
আইনজীবী রমজান আলী শিকদার জানান, সাবেক এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত মোট ৩৮টি মামলার তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে দু’টি মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রক্রিয়াধীন। বাকি ৩৬টি মামলার মধ্যে ইতোমধ্যে দু’টি মামলায় হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয়ার পাশাপাশি রুল জারি করেছেন। এ ছাড়া আরো ১৮টি মামলায় জামিনের বিষয়ে রুল বিচারাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৯ আগস্ট রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে ডা: দীপু মনিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাকে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি এবং সহিংসতায় নির্দেশ দেয়ার অভিযোগে ধারাবাহিকভাবে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
চিকিৎসক ও আইনজীবী ডা: দীপু মনি ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং তৎকালীন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরের মেয়াদে তিনি শিক্ষামন্ত্রী এবং ২০২৪ সালের শুরুতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ৫ আগস্ট ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তার মন্ত্রিত্বের অবসান ঘটে।



