ডেন্টাল টেকনোলজিস্টরা প্র্যাকটিস করতে পারবেন না : আপিল বিভাগের রায়

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রায় দিয়েছেন, ডিপ্লোমাধারী ডেন্টাল টেকনোলজিস্টরা সরাসরি রোগীর চিকিৎসা বা প্র্যাকটিস করতে পারবেন না। তারা শুধুমাত্র বিডিএস ডিগ্রিধারী ডেন্টাল চিকিৎসকদের সহকারী হিসেবে কাজ করতে পারবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংগৃহীত

ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী ডেন্টাল টেকনোলজিস্টরা সরাসরি কোনো রোগীর চিকিৎসা বা প্র্যাকটিস করতে পারবেন না বলে রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। রায়ে বলা হয়েছে, তাদেরকে বিডিএস চিকিৎসকদের সহযোগী হিসেবেই কাজ করতে হবে।

বুধবার (২৪ জুন) প্রধান বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ফুল বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন। এই রায়ের ফলে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের প্র্যাকটিস করার আর কোনো আইনি সুযোগ থাকল না।

এর আগে, বিডিএস ডিগ্রিধারী ডেন্টাল সার্জনদের মতো প্র্যাকটিস করার অনুমতির জন্য রিট করেছিলেন ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী ডেন্টাল টেকনোলজিস্টরা। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের কয়েকটি ক্ষেত্র নির্ধারণ করে প্র্যাকটিস করার অনুমতি প্রদান করেন। ওই রায়ের সংশ্লিষ্টতায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করেন এবং তাতে বিডিএস ডেন্টাল চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটিও পক্ষভুক্ত হয় যৌথভাবে মামলাটি লড়ে।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আইন অনুযায়ী, ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের সরাসরি রোগীর চিকিৎসা বা ব্যবস্থাপত্র দেয়ার কোনো আইনি অনুমতি নেই। তাদের প্রধান দায়িত্ব হলো ডেন্টাল সার্জন বা চিকিৎসকদের ল্যাবরেটরিতে সহায়তা করা। আইন অনুযায়ী, শুধুমাত্র বিএমডিসি নিবন্ধিত ও অনুমোদিত বিডিএস ডিগ্রিধারী ডেন্টাল সার্জনরাই দাঁতের চিকিৎসা করতে পারবেন।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-এর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান, ব্যারিস্টার এরশাদ হোসেন রাশেদ। বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন, সিনিয়র অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, ব্যারিস্টার মনির এবং সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তরিক উল্যাহ।

অপরদিকে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির এবং অ্যাডভোকেট সৈয়দা নাসরিন।