বাংলাদেশে জাতীয় আইনি সহায়তা ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে সরকারি প্যানেল আইনজীবী হিসেবে প্রতিবন্ধী আইনজীবীদের নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন অধিকারকর্মীরা।
বুধবার ঢাকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা বিচারব্যবস্থাকে প্রতিবন্ধী-বান্ধব করার এবং ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩’-এর পূর্ণ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
জাতীয় আইনি সহায়তা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ভিজ্যুয়ালি ইমপেয়ার্ড পিপলস সোসাইটি (ভিপস) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের একটি বিশাল অংশ প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও তারা প্রায়ই আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন। তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতার অভাব, যাতায়াত জটিলতা এবং আদালতের অবকাঠামো প্রতিবন্ধী-বান্ধব না হওয়ায় অনেক ভুক্তভোগী আইনি লড়াইয়ের মাঝপথেই হাল ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। এই সঙ্কট উত্তরণে আইনি সহায়তা ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করার পাশাপাশি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল ও অডিও সাপোর্ট নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয়া হয়।
আলোচনায় বক্তারা অভিমত দেন যে, আইনি পেশায় প্রতিবন্ধিতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে প্যানেল আইনজীবী হিসেবে প্রতিবন্ধী আইনজীবীদের সম্পৃক্ত করা হলে তারা তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভুক্তভোগীদের জন্য আরো সংবেদনশীল ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
এ ছাড়া আদালত ও থানাগুলোতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অবাধ যাতায়াত ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণের দাবিও জানানো হয়।
ভিপস-এর সভাপতি অ্যাডভোকেট মো: মোশাররফ হোসেন মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মাসুমা জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মহিউদ্দিন হানিফ।
অনুষ্ঠানে ক্রিশ্চিয়ান এইড ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি ছাড়াও বিপুল সংখ্যক আইনজীবী ও প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সরকারের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন।



