ডিপিডিসির সাবেক ব্যবস্থাপক হুজ্জাত উল্লাহ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট

উভয় আসামির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
হুজ্জাত উল্লাহ
হুজ্জাত উল্লাহ |বাসস

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) হুজ্জাত উল্লাহ ও তার স্ত্রী মাহমুদা খাতুনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক জানায়, কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ ২০২৪ সালের ৮ জুলাই দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষে এ চার্জশিট দেয়া হয়। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো: রুবেল হোসেন এবং এজাহারকারী কর্মকর্তা ছিলেন সাবেক পরিচালক (বর্তমানে পিআরএল ভোগরত) সেলিনা আখতার।

তদন্তে দেখা যায়, আসামি মাহমুদা খাতুনের নামে দায়-দেনা বাদে নিট সম্পদের পরিমাণ ৩৫ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮১ টাকা। এছাড়া ২০০৪-০৫ করবর্ষ থেকে ২০২০-২১ করবর্ষ পর্যন্ত তার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ২৭ লাখ ৩৪ হাজার ৪৯২ টাকা। ফলে তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৩ লাখ নয় হাজার ১৭৩ টাকা।

অন্যদিকে, তদন্তে তার গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া যায় মাত্র ১৩ লাখ ৬৬ হাজার ৩৭২ টাকা। এতে করে তার আয় অপেক্ষা অতিরিক্ত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৯ লাখ ৪২ হাজার ৮০১ টাকা, যা জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

দুদক আরো জানায়, মাহমুদা খাতুন এই জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মধ্যে আট লাখ ১১ হাজার ছয় শ’ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেছেন, যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এছাড়া তার স্বামী ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) হুজ্জাত উল্লাহ ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তার স্ত্রীকে এ সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেছেন বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে, দুদক জানায়, উভয় আসামির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

সূত্র : বাসস