জামিন পেলেন আনিস আলমগীর, কারামুক্তিতে বাধা নেই

আনিস আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং তিন কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট চার কোটি নয় লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আনিস আলমগীর
আনিস আলমগীর |ইন্টারনেট

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের পর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে জামিন দিয়েছেন আদালত। এর ফলে তার বিরুদ্ধে চলমান দুই মামলাতেই জামিন পাওয়ায় কারাগার থেকে মুক্তি পেতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

আজ বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো: সাব্বির ফয়েজ শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে তার আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি জানান, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে থাকা দুই মামলাতেই জামিন মিলেছে। ফলে আনিস আলমগীরের কারামুক্তির পথে আর কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই।

মামলার নথি অনুযায়ী, জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে গত ১৫ জানুয়ারি আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

পরে তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান গত ২৫ জানুয়ারি আদালতে তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ জানুয়ারি আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়, আনিস আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং তিন কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট চার কোটি নয় লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

এছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য খাতে তার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এতে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় চার কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা। তবে বৈধ আয়ের উৎস থেকে তার মোট আয় পাওয়া গেছে ৯৯ লাখ নয় হাজার ৮৫১ টাকা।

এর মধ্যে অতীত সঞ্চয় ৫৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮২১ টাকা, টক শো ও কনসালটেন্সি থেকে ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টাকা, প্লট বিক্রি থেকে ২২ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদ বাবদ তিন লাখ ২৪ হাজার ৫৩ টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

দুদকের হিসাবে, তার ঘোষিত ও গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় তিন কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার অতিরিক্ত সম্পদ পাওয়া গেছে, যা মোট সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ। এই অংশকে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে, গত ১৪ ডিসেম্বর ‘জুলাই রেভুলেশনারি অ্যালায়েন্স’-এর সংগঠক আরিয়ান আহমেদ উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ১৫ ডিসেম্বর আদালত আনিস আলমগীরের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পরে গত ৫ মার্চ সেই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পান আনিস আলমগীর।