স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকর করতে ডেথ রেফারেন্স শুনানি যেন আইনগত প্রক্রিয়া মেনেই সিরিয়ালে কিছুটা এগিয়ে আনা যায়, সেজন্য সুপ্রিম কোর্ট এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।
আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায়কে দেশের বিচারিক এবং পুলিশের তদন্তের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক ‘মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করে মন্ত্রী বলেন, ‘অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে নিখুঁতভাবে ডিএনএ টেস্ট ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এমনকি আদালতের বিচারক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ তাদের ঈদের ছুটি (জুডিশিয়াল লিভ) বাতিল করে এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। এটি একটি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অনন্য দৃষ্টান্ত।’
তিনি বলেন, শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডসহ বেশ কয়েকটি জটিল মামলার দ্রুততম সময়ে তদন্ত সম্পন্ন ও আসামি গ্রেফতারে পুলিশ বাহিনী অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও পেশাদারি ভূমিকা পালন করেছে।
ভালো কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, পুলিশের ভালো কাজের যেমন মূল্যায়ন করা হবে, তেমনি কোনো সদস্যের নিষ্ক্রিয়তা বা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাকেও ছাড় দেয়া হবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গোয়ালন্দ (দৌলতদিয়া) ঘাটে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের আন্তরিক ও বিচক্ষণ ভূমিকার কারণে কমপক্ষে ৫০ জন বাসযাত্রীর প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। এছাড়া মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি কিশোরী হত্যার ক্লুলেস মামলার দ্রুততম সময়ে রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
নয়াদিল্লিতে আগামীকাল ৮ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের চার দিনব্যাপী সীমান্ত সম্মেলন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে অবৈধ পুশইন, সীমান্ত হত্যা এবং অন্যান্য সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়সহ সামগ্রিক বিষয়গুলো এই বৈঠকে গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হবে।
তিনি বলেন, আমাদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্তে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
গতকাল অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের বৈঠকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংসদ সদস্যদের আলোচনার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, অপরাধ ও মাদক দমনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান সবসময়ই চলমান রয়েছে। তবে কৌশলগত কারণে বিশেষ অভিযানের আগাম তথ্য প্রকাশ করা হয় না।
তিনি জানান, প্রচলিত কিছু আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা যেন পার পেয়ে যেতে না পারে, সেজন্য সরকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ এবং জুয়া প্রতিরোধে যুগোপযোগী ও আধুনিক আইন প্রণয়নের কাজ করছে। আইনগত এই সংস্কারগুলো সম্পন্ন হলে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা আরো সহজ হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : বাসস



