সাঈদীর মামলার সাক্ষী সুখরঞ্জন বালী গুম : সাবেক এএসপি ফজলুর কারাগারে

ভারতের দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঁচ বছর আটক থাকার পর সেখানকার গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে বাংলাদেশ থেকে তার ছেলে অপূর্ব বালী ভারতে গিয়ে কারাগার থেকে তার বাবাকে জামিনে মুক্ত করে নিয়ে আসে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সাক্ষী সুখরঞ্জন বালী
সাক্ষী সুখরঞ্জন বালী |ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাফাই সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীকে গুমের ঘটনায় করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো: ফজলুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস রুলস অব প্রসিডিওর-এর ৩৪(১) বিধি মোতাবেক পুলিশ স্কটের মাধ্যমে শুক্রবার (৩ জুলাই) তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর পক্ষের সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীকে গুম করার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কমপ্লেইন্ট (রেজি-১৮৮) মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হেলালুল ইসলাম। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে রাজধানীর বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

কারাগারে আটক রাখার আবেদনে বলা হয়েছে, ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষের সাক্ষী সুখরঞ্জন বালী তার সঙ্গীয় অ্যাডভোকেটসহ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, পুরাতন হাইকোর্ট ভবনের মূল ফটকের সামনে গাড়িযোগে এসে থামার সাথে সাথে সাদা পোশাকধারী বাহিনীর লোকজন সুখরঞ্জন বালীকে গাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে জোরপূর্বকভাবে তাদের সাদা ডাবল কেবিন গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যায়। তারপর ভিকটিম সুখরঞ্জন বালীকে চোখ বাঁধা অবস্থায় দুই মাসব্যাপী শারীরিক নির্যাতন করে অন্ধকার বন্দিশালায় আটক রাখে। তারপর ভারতের দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঁচ বছর আটক থাকার পর সেখানকার গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে বাংলাদেশ থেকে তার ছেলে অপূর্ব বালী ভারতে গিয়ে কারাগার থেকে তার বাবাকে জামিনে মুক্ত করে নিয়ে আসে।

মামলাটি তদন্তকালে এবং প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণে জানা যায় যে, ঘটনার দিন ডিএমপি ডিবি থেকে দু’টি ডাবল কেবিন গাড়িযোগে ওই আসামি মো: ফজলুর রহমান ও তার সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, পুরাতন হাইকোর্ট ভবনের সম্মুখ থেকে জোরপূর্বকভাবে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখানে হাজতখানায় রাখার পর তাকে সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ওই আসামি মামলায় ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। অতএব, এ মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই আসামিকে জেলহাজতে আটক রাখার প্রার্থনা করা হলো।

সূত্র : বাসস