সংসদে আইসিটি আইনের সংশোধনী পাস

গুমের বিচার হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে

১৯৭৩ সালের আইনের এই সংশোধনীর ফলে গুমের সাথে সম্পৃক্ত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার আইনি বাধা দূর হলো এবং সরকারের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটল। গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার পাওয়ার আইনি ভিত্তি শক্তিশালী করতে এ বিলটি পাস করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল |ইন্টারনেট

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের বিচার নিশ্চিত করতে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে, যার মাধ্যমে গুমকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান জানান, ১৯৭৩ সালের আইনের এই সংশোধনীর ফলে গুমের সাথে সম্পৃক্ত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার আইনি বাধা দূর হলো এবং সরকারের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটল। গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার পাওয়ার আইনি ভিত্তি শক্তিশালী করতে এ বিলটি পাস করা হয়।

আজ মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

বিল পাসের আগে এর উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিলের মাধ্যমে আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের বিচারকে সঠিক পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য গুমকে একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছি। যারা বলছেন আমরা গুমের বিচার চাচ্ছি না, তাদের বলব- এই আইনটা ভালো করে পড়ে দেখবেন। গুম আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের তালিকায় ছিল না। আমরা তা অন্তর্ভুক্ত করে বিচারের ব্যাপারে আমাদের সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়েছি।’

আইনমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বাইরে গুমের বিচার করার ব্যাপারে সরকারের সদিচ্ছাকে অনেকে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেছেন। এই সরকার গুমের সাথে সম্পৃক্ত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে কতটা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, তা এই বিলের মাধ্যমে পুরো সংসদ ও দেশবাসীকে অবহিত করলাম।’

বিলটি পাসের পর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময় যখন আসবে তখন আলোচনায় আমরা অংশগ্রহণ করব। এখানে এই ব্যাপারে আর কিছু বলতে চাচ্ছি না।’

আলোচনার এক পর্যায়ে স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী, বাইরে কত লোক কত কথা বলে। আপনি সংসদের আলোচনা ও সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের মধ্যে আপনার বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখেন। বাইরের কথা শোনার প্রয়োজন এখানে সংসদীয় আইনে নেই। বিধি অনুযায়ী যেটুকু করতে হবে, সে ব্যাপারে আমরা কাজ করছি।’

উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস অ্যাক্টের অধিকতর সংশোধনকল্পে এ বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয়। বিলটি পাসের মধ্য দিয়ে গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার পাওয়ার আইনি ভিত্তি আরো শক্তিশালী হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।