ওসমান হাদি হত্যা

ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রুবেলের দায় স্বীকার

দু’ দফায় নয় দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ওসমান হাদি
ওসমান হাদি |ফাইল ছবি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রুবেল আহম্মেদ দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

দু’ দফায় নয় দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ।

এরপর রুবেল ঘটনার দায় স্বীকার করে স্বেচ্ছায় আদালতে জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো: ইসমাইল তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি প্রসিকিউশন) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, গত ২২ জানুয়ারি ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তার ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ২৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফায় তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম।

২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে আনুমানিক দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুষ্কৃতকারীরা ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১২০(বি)/৩২৬/৩০৭/১০৯/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। আহত ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে গত ২০ ডিসেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ।

গত ৬ জানুয়ারি ১৭ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ।

তবে ডিবির দেয়া চার্জশিটে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করেন মামলার বাদী। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছে।

ডিবির দাখিল করা চার্জশিটে মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে এবং বাকি ছয়জন পলাতক রয়েছে। বাসস