২০২৪ সালের জুলাইয়ে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ট্রাইব্যুনালে এ স্মারকলিপি জমা দেয়া হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম, হত্যা, নাগরিক অধিকার হরণ ও দমন-পীড়নের ধারাবাহিকতার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশব্যাপী ছাত্র-জনতার আন্দোলন গড়ে ওঠে। ওই আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, গুরুতর নির্যাতন, বলপ্রয়োগ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর আওতায় তদন্তযোগ্য।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, অপরাধের প্রকৃত সত্য উদঘাটন, ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন তদন্ত অপরিহার্য।
এতে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- জুলাই ২০২৪ এর প্রধান প্রধান ঘটনাস্থলের তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করা, তদন্তে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং বিচার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া।
এছাড়া দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে যেখানে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, সেসব জেলার সব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়। তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, জুলাইয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া এবং ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
একইসাথে গণহত্যা বা মানবতাবিরোধী অপরাধকে সমর্থন, উসকানি, অপপ্রচার বা বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত করার অভিযোগ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানানো হয়।
গুম, গুম-পরবর্তী হত্যা এবং নিহত ব্যক্তিদের লাশ গোপন বা ধ্বংসের অভিযোগের তদন্ত দ্রুত শেষ করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি গুম-সংক্রান্ত মামলাগুলোর তদন্তে ধীরগতির কথা উল্লেখ করে এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং ভুক্তভোগী পরিবার ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে শহীদ পরিবারের পক্ষে স্বাক্ষর করেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য রোকেয়া বেগম, যিনি নিজেকে শহীদ যাবের ইব্রাহিমের মা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনটির সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।



