দেশে সামাজিক ও নৈতিকতার অবক্ষয় এবং মানুষের চিন্তা ও মূল্যবোধের পতন ঘটেছে এমন মন্তব্য করে আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান বলেছেন, একজন অশিক্ষিত মানুষ, অশিক্ষিত বলতে যার একাডেমিক জ্ঞান নেই, এমন একজন ব্যক্তি বলছেন, 'ইশ! যদি লেখাপড়া শিখতাম, তাহলে বড় চোর হতে পারতাম।' কারণ, আমাদের দেশে যত দুর্নীতি ও লুটপাট হয়, বিদেশে যত বাড়িঘর হয়, দেশ থেকে ১৬ বছরে যে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়ে বিদেশের ব্যাংকে শান-শওকত বাড়ায়- তার ৯৯ শতাংশ হলো বিশ্ববিদ্যালয় পাস করা শিক্ষিতরা।
আজ সোমবার বিশ্ব প্রবীণ নির্যাতন সচেতনতা দিবস-২৬ এর পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মোহাম্মদপুর ওয়াইডব্লিউসিএ স্কুল অডিটোরিয়ামে সভার আয়োজন করে রিসার্চ ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক)।
আইনমন্ত্রী বলেন, প্রবীণরা শিশুদের চেয়েও অসহায় হয়ে পড়েন। কারণ শিশুরা কম বুঝলেও তাদের শারীরিক সামর্থ্য দিয়ে তা কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রতিদিন সামনের দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু প্রবীণদের ক্ষেত্রে শারীরিক অসমর্থতা ও অসুস্থতার কারণে নিজে থেকে সব করা সম্ভব হয় না। তাদের অন্যের সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। এই কারণে প্রবীণদের জন্য কাজ করার প্রয়োজনীয়তা অনেক যৌক্তিক এবং বেশি বলে মনে করি। তবে রাষ্ট্র এখানে কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারে, সেটিই দেখার বিষয়। রাষ্ট্র মূলত নীতি নির্ধারণী (পলিসি) পর্যায়ে ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু সরাসরি আমাদের মতো দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড যে পর্যায়ে আছে, সেই পর্যায় থেকে কতটুকু টাকা-পয়সা দেয়া সম্ভব, সেখানে রাষ্ট্রের সীমাবদ্ধতার একটি ব্যাপার রয়েছে। একই সাথে, সামাজিক সচেতনতা যদি না থাকে, তবে এ ধরনের একটি কর্মযজ্ঞকে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব না।
উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একজন প্রবীণ নারী, মিরপুরের দিকে সম্ভবত, নিজের বাসায় মরে পড়ে ছিলেন। অথচ তার সন্তানরা বড় কর্মকর্তা, সম্ভবত একজন বুয়েট শিক্ষক। অথচ তার মায়ের অবস্থা এমন! এটি কোনো আইন দিয়ে ঠিক করা যাবে না। কোনো আইন দিয়ে একে রক্ষা করা কঠিন হবে। এর জন্য ওই শিক্ষিত মানুষটিকে নিজ থেকে আরো সচেতন হতে হবে।
মো: আসাদুজ্জামান বলেন, এবারের বাজেটে প্রথমবারের মতো প্রবীণদের কথা চিন্তায় এনে, ৬৫ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণদের জন্য রেল ভাড়া ফ্রি করে দেয়া হয়েছে। মেট্রোরেলের ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ ছাড় দেয়া হয়েছে। প্রবীণরা আগে যে ৬৫০ টাকা ভাতা পেতেন, যদিও আমি মনে করি এখনকার দিনে ৭০০ টাকা কিছুই না, সেই ভাতার টাকাটা প্রবীণদের জন্য কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। এবারের বাজেটে যাদের বয়স ৯০ বছরের বেশি, তাদের জন্য ভাতা ১০০০ টাকা করা হয়েছে। এর বাইরেও আমরা সোশ্যাল সেফটি নেটের (সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি) মধ্যে যা এনেছি- বাংলাদেশে প্রায় চার কোটির মতো পরিবার আছে, প্রত্যেক পরিবারে আমরা সদস্যদের বিভাজন করেছি। যেমন- কোনো পরিবারে নারী সদস্য থাকলে, পরিবারের সদস্য হিসেবে তাকে আমরা ফ্যামিলি কার্ডে অগ্রাধিকার (প্রায়োরিটি) দিচ্ছি। যিনি চাকরি করছেন, তারা হয়তো পাবেন না; কিন্তু যিনি চাকরি করছেন না, বাসার গৃহকর্ত্রী এবং হয়তো বয়স্ক, তার জন্য আমরা প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা করে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় দেয়ার ব্যবস্থা করছি। সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এটা নিয়ে একটি সমন্বিত প্রকল্প করছে। এছাড়া কৃষকদের জন্য আমরা কৃষি কার্ড দিচ্ছি। আপনাদের পক্ষ থেকে প্রবীণ কার্ড দেয়ার বিষয়ে যে প্রস্তাব এসেছে, সরকার নিশ্চয়ই তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে এবং বিষয়টি আমিও সামনের দিকে নিয়ে আসার চেষ্টা করব।



