গৃহকর্মীদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধনপদ্ধতি বাস্তবায়নে নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আজ রোববার এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।
গৃহকর্মীদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধনপদ্ধতি বাস্তবায়নে নিষ্ক্রয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা–ও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। আইনসচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থানসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট তানজিম আল ইসলাম। তার সাথে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী খাদিজাতুল কোবরা ও আইনজীবী রওশন আরা।
এর আগে, গত ১৩ জানুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রাজধানীসহ দেশের সব গৃহকর্মীর নাম নিবন্ধন করার নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করেন আইনজীবী খাদিজাতুল কোবরা।
পরে খাদিজাতুল কোবরা সাংবাদিকদের বলেন, গত বছর ৫ ডিসেম্বরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি বাসায় মা-মেয়েকে হত্যা করা হয়েছিল। সে সময় এই হত্যাকাণ্ড বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। হত্যাকারী ছিলেন ওই বাসারই গৃহকর্মী। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর যুক্ত করে বিবাদিদের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলাম। সেই নোটিশে ১৯৬১ সালের গৃহকর্মী নিবন্ধন অধ্যাদেশ অনুসারে গৃহকর্মীদের জন্য ‘বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা’ বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় পরে ৩১ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট আবেদন করি।
১৯৬১ সালের গৃহকর্মী নিবন্ধন অধ্যাদেশে রাজধানী ঢাকার নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। এলাকাগুলো হচ্ছে- ঢাকা কোতোয়ালী, সূত্রাপুর, লালবাগ, রমনা ও তেজগাঁও।
বিদ্যমান অধ্যাদেশ অনুসারে এসব এলাকার বাসাবাড়িতে কাজ করা গৃহকর্মীদের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে সরকার গেজেট জারির মাধ্যমে অন্য এলাকাও অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ রয়েছে।



