অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকার টাস্কফোর্সে ইউনানিসহ অন্যদের না রাখায় রিট

এই টাস্কফোর্সের কাজ ছিল দেশীয় ওষুধের প্রয়োজনীয় তালিকা তৈরি এবং ওষুধের সঠিক মূল্য নির্ধারণে সরকারকে সুপারিশ করা। এই টাস্কফোর্সে সব ধরনের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি না থাকায় তালিকা তৈরির কাজটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রণয়ন ও ওষুদের যৌক্তিক দাম নির্ধারণে গঠিত টাস্কফোর্স থেকে আয়ুর্বেদিক, ইউনানি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের বাদ দেয়ার বৈধতা নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই রুল জারি করেন।

আদালত সুত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ইউনানি মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মাহবুবুর রহমান এবং অন্য একজনের দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেয়া হয়। রিটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক এবং ওষুধ প্রশাসন-১ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিবকে বিবাদি করা হয়েছে।

রিট আবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই ১৮ সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এই টাস্কফোর্সে আয়ুর্বেদিক, ইউনানি, হোমিওপ্যাথি, বায়োকেমিক, হারবাল এবং ভেটেরেনারি বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। রিটকারীরা দাবি করেছেন, তাদের বাদ দেয়া ওষুধ ও প্রশাধন সামগ্রী আইন ২০২৩ এর ধারা ১৩ এবং ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের দেয়া নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

আদালত বিবাদিদের প্রতি জানতে চেয়েছেন, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের বাদ দিয়ে গঠন করা টাস্কফোর্সের প্রজ্ঞাপন কেন অবৈধ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আইনগত কর্তৃত্বহীন ঘোষণা করা হবে না। কেন সব স্টেকহোল্ডারদের (আয়ুর্বেদিক, ইউনানি, হোমিওপ্যাথি, বায়োকেমিক, হারবাল ও ভেটেরেনারি বিশেষজ্ঞ) এই টাস্কফোর্সে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেয়া হবে না জানতে চাওয়া হয়েছে।

আদালত এই রুলের জবাব দেয়ার জন্য বিবাদিদের আগামী তিন সপ্তাহের সময় দিয়েছেন।

আবেদনকারীর পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইজীবী একেএম জগলুল হায়দার আফ্রিক।

জানা গেছে, এই টাস্কফোর্সের কাজ ছিল দেশীয় ওষুধের প্রয়োজনীয় তালিকা তৈরি এবং ওষুধের সঠিক মূল্য নির্ধারণে সরকারকে সুপারিশ করা। এই টাস্কফোর্সে সব ধরনের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি না থাকায় তালিকা তৈরির কাজটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।