জাতীয় উন্নয়নে স্বাস্থ্যখাতের গুরুত্ব বিবেচনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা জিডিপির ১.০২ শতাংশ।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ বাবদ বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা, যা জিডিপি’র ০.৫৮ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার বাজেট বক্তৃতায় এই প্রস্তাব পেশ করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি স্বাস্থ্যবান জাতি গঠনই টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পূর্বশর্ত। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলা, দুর্নীতি, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও জবাবদিহিতার অভাবে দেশের স্বাস্থ্যখাত দুর্বল ও অকার্যকর হয়ে পড়েছে- যার প্রতিফলন আমরা দেখেছি কোভিড-১৯ মহামারি এবং সাম্প্রতিক হাম সংক্রমণে শিশুমৃত্যুর ঘটনায়।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সময়ে স্বাস্থ্যখাতে অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ ও উপকরণ ক্রয়ে যে পরিমাণ ব্যয় হয়েছে, তার একটি বড় অংশই দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট করা হয়েছে। তাই স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন হয়নি। সে কারণে দেশের হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত রোগীর চাপে বর্তমানে হিমশিম খাচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, বিএনপি সরকারের লক্ষ্য শুধু হাসপাতাল বাড়ানো নয়, বরং বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে চিকিৎসাকেন্দ্রিক ধারা থেকে প্রতিরোধকেন্দ্রিক ধারায় রূপান্তর করা। তাই আমাদের অঙ্গীকার-গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, রোগ প্রতিরোধ, পুষ্টি উন্নয়ন, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য, টিকাদান, ক্যান্সার ও ডায়াবেটিসসহ অসংক্রামক রোগের আগাম শনাক্তকরণ এবং জনসচেতনতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া।
আমির খসরু বলেন, জনগণের স্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিএনপি সরকারের একটি ঐতিহাসিক নির্বাচনি অঙ্গীকার হলো, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সামগ্রিক স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দ ধাপে ধাপে জিডিপির ৫.০ শতাংশে উন্নীত করা। কারণ কোনো দরিদ্র পরিবার যাতে চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে নিঃস্ব না হয় সেটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, আমাদের সরকার স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগকে ব্যয় নয়, বরং মানবসম্পদ উন্নয়ন ও জাতীয় অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম প্রধান বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করছে। সেই লক্ষ্যে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বরাদ্দ জিডিপির ১.০১ শতাংশে উন্নীত করা হচ্ছে; যা একটি জনমুখী, দায়িত্বশীল ও ভবিষ্যতমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গঠনের সূচনা করবে।
সূত্র : বাসস



