চিকিৎসক সমাজকে নিয়ে সাংবাদিক মাসুদ কামালের আপত্তিকর ও অবমাননাকর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)।
মঙ্গলবার (৯ জুন) এক বিবৃতিতে এনডিএফের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক ডা: মো: নজরুল ইসলাম ও মহাসচিব অধ্যাপক ডা: মাহমুদ হোসেন এ নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে প্রবীণ সাংবাদিক মাসুদ কামাল বাংলাদেশের চিকিৎসকদের নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর, কুরুচিপূর্ণ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন। তার এই কুরুচিপূর্ণ ও দায়িত্বহীন বক্তব্য দেশের সমগ্র চিকিৎসক সমাজের পেশাগত মর্যাদা, সামাজিক সম্মান ও চিকিৎসকদের প্রতি জনগণের আস্থাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।’
নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘গণতান্ত্রিক সমাজে গঠনমূলক সমালোচনা ও জবাবদিহিতা অবশ্যই থাকবে। কিন্তু মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে একটি মহান পেশাজীবী সমাজকে ঢালাওভাবে আক্রমণ করা, আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করে হেয় প্রতিপন্ন করা কোনোভাবেই সুস্থ সাংবাদিকতা হতে পারে না। এটি স্পষ্টত সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী এবং একটি বিদ্বেষমূলক আচরণ।’
তারা বলেন, ‘বাংলাদেশের চিকিৎসকরা প্রতিদিন অপর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম, অতিরিক্ত কর্মচাপ এবং নানাবিধ কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশের কোটি কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। করোনাকালীন দুর্যোগ থেকে শুরু করে যেকোনো জাতীয় সংকটে চিকিৎসকরা নিজেদের জীবনবাজি রেখে সম্মুখসারিতে লড়াই করেছেন। এমন একটি নিবেদিতপ্রাণ পেশাজীবী সম্প্রদায়কে গণমাধ্যমে দাঁড়িয়ে এভাবে অপমান করা চরম অন্যায় ও অবিচার।’
‘মাসুদ কামালের এই বিষোদগারমূলক বক্তব্য সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসকদের মধ্যকার পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ককে ভেঙে ফেলার এক অপচেষ্টা, যা দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যখাতের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক ও আত্মঘাতী।’
এনডিএফ নেতৃদ্বয় বলেন, ‘চিকিৎসক সমাজের সম্মান ও পেশাগত নিরাপত্তা রক্ষার প্রশ্নে এনডিএফ কোনো ধরনের আপস করবে না। যদি অতিদ্রুত এই আপত্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়া না হয়, তবে চিকিৎসক সমাজের ন্যায্য মর্যাদা ও সম্মান রক্ষার্থে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।’



