বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ওরাল ক্যান্সারের রোগীদের জন্য চালু হলো ২০ বেডের নতুন ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডটি পরিচালনা করবে দন্ত অনুষদের ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফিশিয়াল বিভাগ। মুখের ক্যান্সার রোগীদের দীর্ঘদিনের দাবিটি পূরণ হলো এই ওয়ার্ড চালুর মাধ্যমে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের আউটডোর-২-এর পঞ্চম তলায় ওয়ার্ডটির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি অধ্যাপক ডা: এফ এম সিদ্দিকী।
এর আগে ডি ব্লকের নিচতলায় অর্থোপেডিক বিভাগের সাথে ওরাল ও ম্যাক্সিলোফিশিয়াল বিভাগের ১০ বেডের একটি ওয়ার্ড থাকলেও বিগত আওয়ামী আমলে তা থেকে ৫টি বেড নিয়ে নেয় অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগ। ফলে তখন বাংলাদেশের ওরাল ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ আরো সঙ্কুচিত হয়ে যায়।
মুখের ক্যান্সার রোগীর অস্ত্রোপচারসহ নানা চিকিৎসার পাশাপাশি দুর্ঘটনায় আহতদের চোয়ালের হাড় ভেঙ্গে যাওয়া অথবা চোয়ালের জয়েন্ট ছুটে গেলে সেটা অস্ত্রোপচার করে আগের মতো ঠিক করে দেয়ার কাজটিও করে থাকে ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফিশিয়াল বিভাগ। তখন পর্যাপ্ত বেড না থাকায় মুখের ক্যান্সার ও মুখের হাড় ভাঙ্গা রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছিল।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রতিবছর ৭ থেকে ৮ হাজার মানুষ নতুন করে মুখের নানা ধরনের ক্যান্সারে (মুখ, ঠোঁট ও গলা) আক্রান্ত হয়ে থাকে। ১১.৭ শতাংশ পুরুষ ও ৫.৫ শতাংশ নারী মুখের ক্যান্সারে ভুগেন। অন্যদিকে মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ (১ম থেকে ৫ম স্থানের মধ্যে উঠা-নামা করে)।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ওরাল ক্যান্সার রোগীদের ভর্তির সুযোগ বেড়ে যাওয়ায় আরো অনেক বেশি ক্যান্সার আক্রান্ত চিকিৎসার আওতায় আসবে। ওরাল ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনকোলজি বিভাগেও হয় তবে অনকোলজি বিভাগ শুধু থেরাপি দিয়ে থাকে। অন্যদিকে ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফিশিয়াল বিভাগ মুখের ক্যান্সার রোগীদের অস্ত্রোপচার করে থাকে। সেই দুর্ঘটনায় ভাঙ্গা চোয়াল রিকন্সট্রাক্ট (পুনর্গঠন) করে থাকে। ফলে ভাঙ্গা চোয়াল নিয়ে রোগীদের সারাজীবন ঘুরে বেড়াতে হয় না।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ভিসি অধ্যাপক ডা: এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফিশিয়াল বিভাগের ২০ বেড মুখের ক্যান্সার রোগীদের জীবনে আলো জ্বালানোর কাজে সহায়তা করবে। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসায় আরো একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএমইউ’র প্রো-ভিসি (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা: মো: নজরুল ইসলাম, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা: মো: আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা: মো: মুজিবুর রহমান হাওলাদার, দন্ত অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা: সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা: মো: মোস্তফা কামাল, প্রক্টর অধ্যাপক ডা: শেখ ফরহাদ, ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফিশিয়াল বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ডা: মো: মাহমুদা আক্তার, চিফ এস্টেট অফিসার ডা: মো: এহতেশামুল হক (তুহিন), পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা: ইরতেকা রহমান প্রমুখ।



