ঢাবির বটতলায় ছাত্রশিবিরের ‘কুরআন সন্ধ্যা’: তিলাওয়াতে মুখরিত ক্যাম্পাস

শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও সুমধুর তেলাওয়াতে পুরো বটতলা চত্বরে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এছাড়া দেশের প্রথিতযশা ক্বারী ও শিল্পীরা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত, ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ঢাবির বটতলায় ছাত্রশিবিরের ‘কুরআন সন্ধ্যা’ অনুষ্ঠানে তিলাওয়াত করেন  বিশ্বখ্যাত ক্বারী শাইখ আহমাদ বিন ইউসুফ আল আজহারি
ঢাবির বটতলায় ছাত্রশিবিরের ‘কুরআন সন্ধ্যা’ অনুষ্ঠানে তিলাওয়াত করেন বিশ্বখ্যাত ক্বারী শাইখ আহমাদ বিন ইউসুফ আল আজহারি |সংগৃহীত

ঐতিহাসিক ‘কুরআন দিবস’ উপলক্ষে ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন সংলগ্ন ঐতিহাসিক বটতলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বটতলায় কুরআন সন্ধ্যা’।

সোমবার (১১ মে) বাদ আসর শুরু হওয়া এ আয়োজনে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বখ্যাত ক্বারী শাইখ আহমাদ বিন ইউসুফ আল আজহারি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মহিউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভিপি সাদিক কায়েম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি কাজী আশিক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন খাঁনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে ডাকসু ভিপি ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাদিক কায়েম বলেন, কুরআন দিবস উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের সামনে কুরআন তেলাওয়াত উপস্থাপনের লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল বলেন, “ঐতিহাসিক কুরআন দিবসের প্রেক্ষাপট আমাদের জন্য সবসময়ই অনুপ্রেরণার। বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে এই ক্যাম্পাসেই কুরআন তিলাওয়াত বা গণইফতার আয়োজনের কারণে শিক্ষার্থীদের পরিচয় শনাক্ত করে হেনস্তা করা হয়েছে। আজ সেই রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি থেকে ক্যাম্পাস মুক্ত হয়েছে।”

সভাপতির বক্তব্যে মহিউদ্দিন খান ১৯৮৫ সালের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলেন, “কুরআনের পক্ষের শক্তি যেমন বিশ্বজনীন, এর শত্রুরাও বিশ্বজনীন। ১৯৮৫ সালে কুরআন বিদ্বেষী শক্তির গুলিতে যারা শাহাদাত বরণ করেছিলেন, তাদের সেই মহান কুরবানির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই আমাদের আজকের এই আয়োজন।”

বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বটতলা ও আশপাশের এলাকায় ঢাবি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।

শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও সুমধুর তেলাওয়াতে পুরো বটতলা চত্বরে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এছাড়া দেশের প্রথিতযশা ক্বারী ও শিল্পীরা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত, ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন।

ক্বারী আহমাদ বিন ইউসুফ আল আজহারীর তেলওয়াতের মাধ্যমেই অনুষ্ঠান শেষ হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালের ১২ এপ্রিল পদ্মপল চোপরা ও শীতল সিং নামের ভারতের দু’জন মুসলিমবিদ্বেষী ব্যক্তি কুরআনের সকল আরবি কপি ও অনুবাদ বাজেয়াপ্ত করার জন্য কলকাতা হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে। রিটের বিবৃতিটি ছিলো, “কুরআনে এমন কিছু আয়াত আছে যেখানে কাফির ও মুশরিকদের হত্যা এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রেরণা দেয়া হয়েছে, তাই এই গ্রন্থ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার জন্ম দিতে পারে।” বিচারক পদ্মা খাস্তগীর এই মামলা গ্রহণ করেন এবং এ বিষয়ে তিন সপ্তাহের মধ্যে অ্যাফিডেভিট প্রদানের জন্য রাজ্য সরকারের প্রতি নির্দেশ দেন। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সারাবিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

১০ মে জুমার নামাজ শেষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ থেকে ছাত্র-জনতার মিছিল বের হয়। যাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এই বাধার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১১ মে রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঈদগাহ ময়দানে তৌহিদি জনতা সমাবেশ আয়োজন করে। পুলিশ সমাবেশে ১৪৪ ধারা জারি করে। উপস্থিত জনতা শুধুমাত্র দু’আ করার অনুমতি চাইলে তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান মোল্লা তা না দিয়ে পুলিশকে গুলি করার নির্দেশ দেয়। মুহুর্মুহু গুলিতে তাৎক্ষণিক মাটিতে লুটিয়ে পড়ে দশম শ্রেণীর ছাত্র শিবিরকর্মী আব্দুল মতিন। হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শীষ মোহাম্মদ, রশিদুল হক, ৮ম শ্রেণীর ছাত্র সেলিম, সাহাবুদ্দীন, কৃষক আলতাফুর রহমান সবুর, রিকশাচালক মোক্তার হোসেন ও রেলশ্রমিক নজরুল ইসলাম শহীদ হন। আহত হয় অর্ধ শতাধিক মানুষ। এই ঘটনা ইসলামপ্রিয় জনতাকে হতবিহবল করে তোলে। যার প্রেক্ষিতে ১১ মে কুরআন দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।