ঢাবির সহকারী প্রক্টরের পদ থেকে মোনামির পদত্যাগ

কেবল একজন অসাধারণ মানুষের নেতৃত্ব, চমৎকার একটি টিমের সাথে একটা অভাবনীয় অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান ও তার পরবর্তী পরিস্থিতি এমন সময় আর পরিস্থিতি আদৌ দেশে আর আসবে কি না জানি না। সম্ভবত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর কোনো প্রক্টর ও তার টিম এমন সিচুয়েশন ফেস করেনি, সম্ভবত করবেও না।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি) |সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

সোমবার (১১ মে) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন এবং বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই নিশ্চিত করেন।

পদত্যাগের পর দেয়া ফেসবুক পোস্টে তিনি দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পোস্টে মোনামি লেখেন, ‘আমি আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।’

তিনি জানান, ‘শিক্ষকতা পেশার ৭ বছরে (২০২৪) কখনো এক মুহূর্তের জন্য প্রশাসনিক কোনো দায়িত্ব পালনের ইচ্ছা আমার হয়নি। বিইউপি, জগন্নাথ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন কখনো ভাবিনি আমি প্রশাসনিক কোনো দায়িত্ব কখনো নেবো।’

মোনামি লিখেন, ‘তবে ২৮ আগস্ট, ২০২৪ এ যখন প্রক্টর স্যার আমাকে কল দিয়ে বললেন, তিনি আমাকে সহকারী প্রক্টর হিসেবে চান,’

এমন প্রস্তাবে অনেক ‘এক্সাইটেড’ ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সামান্য লেকচারার, তার চেয়েও সামান্য একজন মানুষ, এতো বড় দায়িত্ব যা সচরাচর একটু সিনিয়র শিক্ষকরা পান, সেই দায়িত্বে আমি!!’

তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘একে তো নতুন বাংলাদেশ। অনেক আশা, অনেক স্বপ্ন আমাদের সবার চোখে। নিজের দেশ, নিজের আলমা ম্যাটারের জন্য যদি ভালো কিছু করতে পারি, তবে এর চেয়ে সৌভাগ্যের কি হতে পারে! তার উপর আমার ডিপার্টমেন্টের বড় ভাই-স্যার, আমি মানা করবো!???’

পোস্টে মোনামি আরো লেখেন, গত ২ বছর ‘সাইফুদ্দীন স্যারের’ কাছে থেকে শিখেছেন উল্লেখ করে সহকারী অধ্যাপক মোনামি লিখেন, ‘কীভাবে একজন প্রক্টরকে, অতিমানব মাত্রার ধৈর্য ধরতে হয়, উত্তপ্ত পরিস্থিতি কিভাবে হাসিমুখে নির্বিকার থেকে টেকেল দিতে হয় আর সর্বপরি কিভাবে নিজের আত্মসম্মান সমুন্নত রাখতে হয়।’

ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা ও মমতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ শিক্ষার্থীদের আগলে রেখেছিলেন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘ওনার টিম মেম্বার হিসেবে আমরাও তাই করার চেষ্টা করেছি, করছি। আমার টেনিউরে আমি কি করতে পেরেছি, কতটা সফল ছিলাম এসব হিসাব করবো না। আমি জানিও না বি ট্রু।’

কেবল একজন অসাধারণ মানুষের নেতৃত্ব, চমৎকার একটি টিমের সাথে একটা অভাবনীয় অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান ও তার পরবর্তী পরিস্থিতি এমন সময় আর পরিস্থিতি আদৌ দেশে আর আসবে কি না জানি না। সম্ভবত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর কোনো প্রক্টর ও তার টিম এমন সিচুয়েশন ফেস করেনি, সম্ভবত করবেও না।

পোস্টের শেষে তিনি লিখেন, ‘আমার দলের সঙ্গে এবং আমাদের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ স্যারের নেতৃত্বে কাজ করতে পারা ছিল এক পরম সম্মানের বিষয়।

আমাদের নতুন প্রক্টর এবং তার দলকে অভিনন্দন। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এই দলের জন্য রইল অনেক অনেক শুভকামনা।’