জাবিতে শিবিরের ‘জুলাই আপরাইজিং’ মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত

১৫ জুলাই ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগকে প্রতিরোধ, ২০ জুলাই কারফিউ ভেঙে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ৫ আগস্টের পরও সাভার-আশুলিয়ার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে এ অঞ্চলের মানুষের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

আতাউর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

Location :

Savar
শিবিরের ‘জুলাই আপরাইজিং’ মিনি ম্যারাথন
শিবিরের ‘জুলাই আপরাইজিং’ মিনি ম্যারাথন |নয়া দিগন্ত

‘জুলাই মোদের ধমনীতে টগবগ করবে আমৃত্যু’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ‘জুলাই আপরাইজিং রান ২০২৬’ শীর্ষক মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘রান আগাইনিস্ট ফ্যাসিজম’ স্লোগানে আয়োজিত এ মিনি ম্যারাথনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ম্যারাথনটি শুরু হয়ে জীববিজ্ঞান অনুষদ, এম এম হল, ক্যাফেটেরিয়া, ছাত্রী হলসমূহ ও চৌরঙ্গী হয়ে পুনরায় শহীদ মিনারে এসে ম্যারাথনটি শেষ হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।

ম্যারাথন শেষে জাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং পার্শ্ববর্তী সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলের মানুষের অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৫ জুলাই ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগকে প্রতিরোধ, ২০ জুলাই কারফিউ ভেঙে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ৫ আগস্টের পরও সাভার-আশুলিয়ার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে এ অঞ্চলের মানুষের ভূমিকা অনস্বীকার্য।’

তিনি বলেন, ‘সেই আত্মত্যাগ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে আমরা ‘জুলাই আপরাইজিং রান ২০২৬’ আয়োজন করেছি। ‘রান আগাইনিস্ট ফ্যাসিজম’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এই মিনি ম্যারাথনের মাধ্যমে আমরা চাই, নতুন বাংলাদেশে যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে। এই ম্যারাথন সবার মধ্যে দেশপ্রেম, জুলাইয়ের চেতনা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী মনোভাবকে আরো শক্তিশালী করবে। শহীদ ও গাজীদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করে একটি আদর্শ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের অগ্রযাত্রায় এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’

এসময় উপস্থিত ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘জুলাই রান’ ও ‘রান এগেইনস্ট ফ্যাসিজম’ এ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসাহব্যঞ্জক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধারাবাহিকভাবে নবীনবরণ, প্রদর্শনী, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, হেলথ ক্যাম্পসহ নানা শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক আয়োজন করা হচ্ছে। জুলাইকে ঘিরে নেয়া উদ্যোগগুলোর মধ্যে এই রান অন্যতম সফল আয়োজন।’

তিনি এতে অংশ নেয়া শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।