জাবিতে ধর্ষণচেষ্টায় এআই ছবি সরবরাহে বিভ্রান্তি, প্রশাসনের নীরবতা

গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের কিছু মূল সিসিটিভি স্থিরচিত্র সরবরাহ করেন। তবে ওই ছবিগুলোর সাথে আগের দেয়া এআই এনহ্যান্সড ছবির তুলনা করলে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে বলে গণমাধ্যমকর্মীরা জানান।

আতাউর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
জাবিতে ধর্ষণচেষ্টায় এআই ছবি বিভ্রান্তি
জাবিতে ধর্ষণচেষ্টায় এআই ছবি বিভ্রান্তি |নয়া দিগন্ত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার পর অভিযুক্তের পরিচয় শনাক্তে সাংবাদিকদের কাছে এআই এনহ্যান্সড প্রযুক্তিতে উন্নত করা স্থিরচিত্র সরবরাহ করাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্তিতে ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১২ মে ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ভুক্তভোগীসহ বেশ কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করেন। তবে অভিযোগ উঠেছে যে সে সময় সাংবাদিকদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে দেয়া হয়নি এবং তথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে ভয়াবহ অসহযোগিতা করা হয়েছে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গ্রুপে অভিযুক্তের এআই-জেনারেটেড ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যা বিভ্রান্তি আরো বাড়িয়ে দেয়। এমনকি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছেও এই কৃত্রিম ছবিই সরবরাহ করা হয়। দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এই ভুল ছবি প্রকাশিত হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ধরনের সংশোধনী বা ব্যাখ্যা না দিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করেছে, যাকে প্রশাসনের মারাত্মক উদাসীনতা ও ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ওখানে অবস্থানরত সাংবাদিকরা জানায়, লামিসার নেতৃত্বে কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে বাধা প্রদান করে। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং একজন সহকারী প্রক্টরে চাপ প্রয়োগ করে তিনি সাংবাদিকদের দূরে রাখেন। লামিসাকে একাধিকবার ছাত্র ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্কসহ একাধিক নেতাকর্মীর সাথে ঘটনাস্থলে আলোচনা করতে দেখা যায়।

এদিকে, গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের কিছু মূল সিসিটিভি স্থিরচিত্র সরবরাহ করেন। তবে ওই ছবিগুলোর সাথে আগের দেয়া এআই এনহ্যান্সড ছবির তুলনা করলে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে বলে গণমাধ্যমকর্মীরা জানান।

এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়েরজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মূল ছবি না দিয়ে এআই এনহ্যান্সড ছবি গণমাধ্যমে সরবরাহে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্তিতে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনেকে অভিযোগ করছেন উদ্দেশ্যমূলকভাবে এআই এনহ্যান্সড ছবি দেয়া হয়েছে। ফলে শুধু ক্যাম্পাসে না পুরো দেশজুড়ে অভিযুক্তের বিষয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এমনকি ঢাকা জেলা পুলিশ তাদের ফেসবুক পোস্টে এআই এনহ্যান্সড ছবি পোস্ট করে অভিযুক্তের ব্যাপারে তথ্য জানতে চেয়েছেন এবং পুরস্কার ঘোষণা করেছেন।

এ বিষয়ে একটি গণমাধ্যমের জাবি প্রতিনিধি মুসফিক রেজওয়ান বলেন, ঘটনার পরবর্তী সময়ে প্রথমদিকে একদল নারী শিক্ষার্থী প্রশাসনের কাছে দাবি করে কেউ যাতে ভিতরে ঢুকতে না পারে। ফলে আমরা সাংবাদিকরা এবং জাকসুর প্রতিনিধিরা ভিতরে প্রবেশ করতে পারিনি। এরপর প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর আমাদের কেউ চাইলে একজন করে ভিতরে যেতে পারবে বলে জানানো হয়। কিন্তু এর মধ্যে অনেকে স্যোশাল মিডিয়ায় এআই জেনারেটেড ছবিটি প্রচার করলে সাংবাদিকরা সেই ছবি দিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে জাকসুর সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বাপ্পি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, সেদিন এআই জেনারেটেড একটা ছবি দিয়ে অভিযুক্তের চেহারা ও মাদরিদের জার্সি পরিবর্তন করা হয়েছে। ভিক্টিমের দোহাই দিয়ে সেদিন জাকসুর নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের ভিতরে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজও দেখতে দেয়া হয়নি, যখন ওনারা ভিতরে গিয়েছিল ততক্ষণে এআই জেনারেটেড ছবি প্রকাশ করে সবাইকে বিভ্রান্ত করা হয়ে গেছে। কারা সেদিন সাংবাদিক ও নেতৃবৃন্দকে প্রবেশ করতে দেয়নি তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সবকিছুর পিছনে বড় কোনো ষড়যন্ত্রের সম্ভবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম ব্যাচের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী লামিসা জামান বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তের মুভমেন্টের কারণে ছবি স্পষ্ট আসছিল না। এ কারণে ভিতরে চারটি ছবি ক্লিয়ার করা হয় এবং ভুক্তভোগীকে ছবিগুলো দেখানো হয় না। এর মধ্যে ভুক্তভুগী যে ছবিটি সিলেক্ট করেন এবং সব থেকে বেশি মিল পাওয়া যায় সেই ছবিটি আমি বাহিরে এসে সাংবাদিক এবং অন্যান্যদের দেই।

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এআই এনহ্যান্সড ছবিটি কাউকে দেই নাই। আমরা পুলিশ প্রশাসনকে মূল ফুটেজ এই দিয়েছি। তবে পাবলিকলি ছবিটি আমরা প্রকাশ করি নাই, আমাদের আরো আগেই ছবিটি পাবলিক করলে ভালো হতো।