বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কৃষি শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা আরো জোরদার করতে নতুন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ও চায়না কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিএইউ) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। একইসাথে বাংলাদেশে সিএইউ হাব ফর কান্ট্রি অ্যান্ড রিজিয়ন স্টাডিজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে বাকৃবির ভিসির কার্যালয়ে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়। পরে কৃষি অনুষদের ডিন কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় সিএইউ হাব উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া ও চায়না এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপকবৃন্দ।
এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে চায়না এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির কলেজ অব ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড গ্লোবাল অ্যাগ্রিকালচার ও বাকৃবির কৃষি অনুষদ ও কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের মধ্যে অ্যাকাডেমিক ও গবেষণা সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হলো। সমঝোতা স্মারক ও সিএইউ হাব প্রতিষ্ঠার স্থানীয় সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: আবদুল কাদের ও কৃষিব্যবসা ও বিপণন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।
স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: বাহানুর রহমান, কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান ও কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম।
এছাড়া চায়না এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির কলেজ অব ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড গ্লোবাল অ্যাগ্রিকালচারের অধ্যাপক ড. শিওলি জু, অধ্যাপক ড. চুয়ানহং ঝাং ও বাকৃবির অন্যান্য অনুষদের ডিনবৃন্দ এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘এ সমঝোতার আওতায় দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ গবেষণা, গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশ, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক সেমিনার ও সম্মেলনের আয়োজনসহ বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পাশাপাশি বাকৃবি থেকে চারজন শিক্ষার্থী চীনে পিএইচডি করার সুযোগ পাবেন। নতুন উদ্বোধন হওয়া সিএইউ হাব এসব কার্যক্রমের সমন্বয় ও বাস্তবায়নের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।’
অনুষ্ঠানে ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘চায়না এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির সাথে এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটি রূপান্তরমুখী ও সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে পারবে। এর ফলে কৃষি উৎপাদনশীলতা ও মানুষের জীবিকার উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও উপকৃত হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘মানসম্মত গবেষণা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই সমঝোতা স্মারক সেই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ই উপকৃত হবে এবং নতুন প্রজন্ম আরো জ্ঞানসমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি হলেও এই সহযোগিতা দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকবে।’



