রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) অ্যাকাডেমিক সাফল্যের প্রায় সব সূচকেই পুরুষ শিক্ষার্থীদের ছাড়িয়ে যাচ্ছেন নারী শিক্ষার্থীরা। সিজিপিএ, ডিনস অ্যাওয়ার্ড, গবেষণা, প্রেজেন্টেশন ও বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে তাদের সাফল্য এখন স্পষ্ট।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের প্রথম ডিনস অ্যাওয়ার্ডে সেরা ১০ শিক্ষার্থীর মধ্যে নয়জনই নারী। এছাড়া ৫৯টি বিভাগ ও ছয়টি ইনস্টিটিউটের ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৪১টি বিভাগে নারী শিক্ষার্থীদের গড় সিজিপিএ পুরুষদের তুলনায় বেশি।
শিক্ষকদের মতে, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, পরিকল্পিত পড়াশোনা, সময়ানুবর্তিতা এবং অ্যাসাইনমেন্ট-প্রেজেন্টেশনে গুরুত্ব দেয়ার কারণে নারী শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করছেন। পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে নারীদের শিক্ষার প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিও এ সাফল্যে ভূমিকা রাখছে।
ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মমতাজ ফারজানা তিথি বলেন, ‘নিয়মিত অধ্যয়ন, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা ও পরিবারের সহযোগিতাই এ অর্জনের মূল ভিত্তি।’
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বর্ষা রাণী মণ্ডল বলেন, ‘পরিকল্পিত পড়াশোনা ও নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণের ফলেই এই সাফল্য এসেছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘নারী শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক অ্যাকাডেমিক সংস্কৃতির প্রতিফলন।’
প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো: আব্দুল আলীম বলেন, ‘এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; ধারাবাহিক পরিশ্রম ও শৃঙ্খলার ফল।’
ভিসি অধ্যাপক ড. মো: ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘নারী শিক্ষার্থীদের এই অর্জন শুধু পরিসংখ্যান নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নেরও প্রতিফলন।’
তিনি আরো বলেন, ‘নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে গবেষণা, উদ্ভাবন ও নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য।’
তবে শিক্ষাবিদরা মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাকাডেমিক সাফল্যের পরও কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এখনো নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তাই এই মেধা ও অর্জনকে কর্মজীবন ও গবেষণায় আরো কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।



