গভর্নর

মালিকানা ও গভর্নেন্স ব্যর্থতায় ব্যাংকের দুরাবস্থা

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ব্যাংকিং খাত : বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ' শীর্ষক লোকবক্তৃতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

নুর আলম, জবি সংবাদদাতা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাংকিং খাত নিয়ে আয়োজিত সেমিনারে  বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাংকিং খাত নিয়ে আয়োজিত সেমিনারে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর |নয়া দিগন্ত

বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতের দুরাবস্থার মূল কারণ হলো ব্যাংকগুলোর মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে পড়া এবং গভর্নেন্স ব্যবস্থার ব্যর্থতা। অবৈধভাবে ব্যক্তি ও সরকারি নির্দেশে ঋণ দেওয়ার ফলে ব্যাংকিং ব্যবস্থার শৃঙ্খলা ও চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স ভেঙে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ব্যাংকিং খাত : বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ' শীর্ষক লোকবক্তৃতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

গভর্নর বলেন, দেশের ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো গভর্নেন্স ফেইলর। সরকার ও প্রভাবশালী ব্যক্তি বা পরিবারের নির্দেশে ঋণ দেওয়া হয়েছে। এর পেছনে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অবহেলা রয়েছে, যা অস্বীকার করার উপায় নেই। তিনি বলেন, ইসলামী পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করা হলেও সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ব্যাংকগুলোতে যথাযথ চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স না থাকায় প্রায় তিন লক্ষ কোটি টাকার মতো অর্থ দেশ থেকে বেরিয়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরো বলেন, পৃথিবীতে চারটি প্রধান খাতের মধ্যে ব্যাংকিং খাত রয়েছে তৃতীয় স্থানে। কিন্তু বাংলাদেশে এর অবস্থান প্রথম, ফলে অন্যান্য আর্থিক খাত ক্ষতির মুখে পড়েছে। ব্যাংকিং খাতকে পুনরায় শক্ত অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক সংস্কার প্রয়োজন। একই সঙ্গে অন্যান্য আর্থিক খাতকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

ব্যাংকের সংখ্যা প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, দেশে ১০ থেকে ১৫টি ব্যাংক থাকলেই যথেষ্ট হতো, অথচ বর্তমানে ব্যাংক রয়েছে ৬৪টি। অতিরিক্ত ব্যাংকের কারণে প্রশাসনিক জটিলতা ও ব্যয় বেড়েছে। ব্যাংকের সংখ্যা কমলে ব্যয় কমবে এবং লাভজনকতা বাড়বে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাংকের আয় বাংলাদেশের সব ব্যাংকের সম্মিলিত আয়ের সমান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাত এক সময় ধ্বংসপ্রায় অবস্থায় পৌঁছেছিল। বর্তমান গভর্নরের নেতৃত্বে এ খাতকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। অর্থের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক নিবিড়, কিন্তু অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সেই সম্পর্ক অনেক সময় অনর্থ ডেকে আনে। শিক্ষার্থীদের সচেতনতা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের ইতিবাচক ধারাকে এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

লোকবক্তৃতায় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ এবং সদস্য সচিব ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।