রাবি শিক্ষার্থীকে ছাত্রদল নেতার ছুরিকাঘাত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

ক্যাম্পাসে এমন হামলার ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

রাবি প্রতিনিধি

Location :

Rajshahi
প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা
প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা |নয়া দিগন্ত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হাসান ও আজাহারুল ইসলামের ওপর ছাত্রদল নেতার অতর্কিত হামলা ও ছুরিকাঘাতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন সংলগ্ন প্যারিস রোডে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

এ সময় রাকসু নেতারা শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্মতা পোষণ করেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। তারা বলেন, ক্যাম্পাসে এমন হামলার ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হাসান বলেন, ‘চারুকলা এলাকায় একজন গার্ড রয়েছে এবং সেখানে কিছু বহিরাগত টোকাই প্রায়ই ঘোরাফেরা করতে আসা দর্শনার্থীদের হেনস্থা করে। এর ধারাবাহিকতায় আমাদের এক ভাই গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তার গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে সেখানে ঘুরতে গেলে তাকে আটকিয়ে হেনস্থা করা হয়। এ সময় ছাত্রদল নেতা হাসিব তার কাছে টাকা দাবি করে। আমাদের ওই ভাই প্রতিবাদ করলে তাকে হুমকি দেয়া হয়। এমনকি প্রক্টরকে ফোন দেয়ার ভয়ভীতিও দেখানো হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরাও সেখানে উপস্থিত ছিলাম এবং আমাদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। পরে, গতকাল রাতে আমরা প্যারিস রোডের পাশে বসে থাকাকালে ছাত্রদল নেতা হাসিব সেখানে এসে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ওই ঘটনায় হাসিব ছাড়া ছাত্রদলের অন্য কোনো সদস্য উপস্থিত ছিল না।’

একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী সজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি দোষীদের শাস্তির দাবিতে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন আর কোনো শিক্ষার্থীর রক্ত না ঝরে—গতকালের ঘটনায় ছাত্রসমাজের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। আমরা চাই ক্যাম্পাসে প্রতিটি শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক এবং আহত দুই শিক্ষার্থী যেন ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন না হয়।’

মানববন্ধনে একাত্মতা পোষণ করে রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘ছাত্রদল কর্তৃক শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনাটি পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য অপমানজনক। সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন বলেই যদি কেউ নেতাগিরির নামে ক্যাম্পাসে মাস্তানি করে বা কোনো শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চালায় এবং প্রশাসন যদি এর বিচার না করে, তাহলে আমরা শিক্ষার্থীরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাবো। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনের প্রতি রাকসুর পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি। সুষ্ঠ বিচার না হলে এ ক্যাম্পাসে কেউ নিজেকে নিরাপদ ভাবতে পারবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ ঘটনার পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকেও হুমকি দেয়া হয়েছে। একটি ছাত্র সংগঠন কতটা দেউলিয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও হুমকি দেয়! আমরা জানিয়ে দিতে চাই, এসব দেউলিয়াত্ব এ ক্যাম্পাসে চলতে দেয়া হবে না।’

মানববন্ধনে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডের পাশে হাসান ও আজাহারের ওপর বহিরাগতদের নিয়ে হামলা চালায় ছাত্রদল নেতা হাসিব। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকেও হুমকি দেয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।