বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এ লক্ষ্যে ফিলিপাইনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে যৌথ কার্যক্রম পরিচালনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানের বারিধারায় ফিলিপাইন দূতাবাসে বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত নিনা পি কেইংলেটের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। এ সময় দুই দেশের উচ্চশিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নে সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে গুণগত শিক্ষা, গবেষণা, কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসার এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয় গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে টেকনিক্যাল, হেলথকেয়ার ও ট্যুরিজম এডুকেশনে ফিলিপাইনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব দ্য ফিলিপিন্সের সাথে অ্যাকাডেমিক সহযোগিতার বিষয়ও উঠে আসে।
এ ছাড়া ফিলিপাইনের স্বাস্থ্য খাতের পেশাজীবীদের সম্পৃক্ত করে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়ানো এবং নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বিপাক্ষিক বিনিময় কর্মসূচি চালু এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের ফিলিপাইনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে বৃত্তি সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংস্কার কার্যক্রম ও অ্যাকাডেমিক পরিকল্পনা সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘বিশ্বায়নের যুগে ফিলিপাইনের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সহায়ক হবে।’
রাষ্ট্রদূত নিনা পি কেইংলেট জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল অ্যাকাডেমিক নেটওয়ার্ক ও শিক্ষা বিস্তারে এর ভূমিকার প্রশংসা করেন। শিক্ষাক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের সহযোগিতায় ফিলিপাইন সরকারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
বৈঠকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের পরিচালক রাজ বিন কাসেমসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা এবং ফিলিপাইন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎ শেষে উভয়পক্ষ পরস্পরকে স্মারক সম্মাননা প্রদান করেন।



