ঢাবি প্রতিনিধি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ‘বিতর্কিত’ ছবি রাখা নিয়ে কথা বলেছেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ। তিনি দাবি করেছেন, জিন্নাহ সরাসরি বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন—এ বিষয়টি তুলে ধরতেই ছবিটি সংগ্রহশালায় রাখা হয়েছে। তবে ছবিটি সরানোর দাবি জানিয়ে ছাত্রদল জিন্নাহর পক্ষ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ডাকসু ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে, দুপুরে ডাকসুর সংগ্রহশালায় রাখা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ওই ছবি ভেঙে দেন আবু তৈয়ব হাবিলদার নামে সাবেক এক শিক্ষার্থী।
এস এম ফরহাদ বলেন, ‘আমরা দেখেছি, ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে একটি টিম ভিসির সাথে সাক্ষাৎ করেছে। তারা একটি দাবি জানিয়েছে। সেটির কপি আমাদের কাছেও এসেছে। একই সাথে তারা বিবৃতিও দিয়েছে যে, ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর একটি ছবি আছে, সেই ছবি সরাতে হবে।’
ছাত্রদলের দাবির যুক্তির সাথে তাদের অবস্থানের মধ্যে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন হঠাৎ করে হয়নি। এর আগে অনেকগুলো প্রেক্ষাপট ছিল। ধারাবাহিকভাবে জিন্নাহ সরাসরি বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই অঞ্চলের পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। সেই বক্তব্যটি আমরা ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে উল্লেখ করেছি। ছবির নিচে ক্যাপশনটি ইংরেজিতে ছিল এবং সেখানে তার বক্তব্য সরাসরি কোট করে লেখা ছিল। আমরা দেখিয়েছি, এর পরেই ভাষা আন্দোলনের বাকি প্রেক্ষাপট তৈরি হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি বুঝিনি, ছাত্রদলকে যদি আমরা জিন্নাহর ছবিটা না দিতাম, তাহলে কী হতো? আমরা যদি জিন্নাহর ছবিটা না দিতাম, তখন আপনারা আলোচনা করতেন যে, জিন্নাহ বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, সেটা আপনারা লুকিয়েছেন। এটাই বলতেন।’
ফরহাদের ভাষ্য, জিন্নাহর ছবি ও তার বক্তব্যের ক্যাপশন না থাকলে জিন্নাহর বাংলা ভাষাবিরোধী অবস্থান আড়াল করার অভিযোগ উঠতে পারত। তিনি বলেন, ‘আর যদি আমরা জিন্নাহর ছবি দিয়ে নিচে ক্যাপশন দিতাম যে, তার বক্তব্য ছিল এই অঞ্চলের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে, তাহলে সেই ছবি ও ক্যাপশন যদি আমরা না দিতাম, তখন হয়তো আপনারা বলতেন, জিন্নাহ যে বাংলা ভাষার বিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন, আমরা সেটা লুকিয়েছি। লুকানোর চেষ্টা করেছি, তাকে দায়মুক্তি দিয়েছি।’
ছাত্রদলের অবস্থান নিয়ে ডাকসু জিএস বলেন, ‘এখন যখন আমরা সেটা দিয়েছি, তখন একটি বক্তব্য দেয়া হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, ছাত্রদল তাদের বিবৃতির মাধ্যমে বিপক্ষ অবস্থান নিয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, ছাত্রদল এখানে পক্ষান্তরে জিন্নাহর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা চায় জিন্নাহকে দায়মুক্তি দিতে, তারা চায় ছবিটা এখান থেকে সরিয়ে নিতে।’
তিনি বলেন, ‘তারা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দিয়েছে যে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটা না সরালে তারা ব্যবস্থা নেবে। তার মানে তারা চায়, জিন্নাহ যে বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, সেটা লুকাতে। তারা দেখাতে চায়, জিন্নাহ এখানে কোনো ভূমিকা পালন করেননি।’
পক্ষ-বিপক্ষের বিষয় নয়, সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবির মাধ্যমে ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে দাবি করে ফরহাদ বলেন, ‘আমরা হুবহু ইতিহাসটা উল্লেখ করেছি। তারা ভুল বুঝেছেন।’
ছাত্রদলের অবস্থানের বিষয়ে তিনি আরো বলেন, ‘দু’টি বিষয় হতে পারে। হয় তারা ইতিহাস কিছুই জানেন না, পড়াশোনা করেন না, জানেনই না যে জিন্নাহ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, সেটা বলা দরকার। অথবা তারা ইচ্ছাকৃতভাবে জিন্নাহকে লুকানোর চেষ্টা করছেন।’
তিনি আরো দাবি করেন, ‘অর্থাৎ জিন্নাহ যে বাংলাদেশের বিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন, তাদের সম্ভবত জিন্নাহপ্রীতি আছে, জিন্নাহর প্রতি আলাদা ভালোবাসা আছে। ছাত্রদল সে কারণে এটা করেছে।’



