পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ভিসি বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপিপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে চতুর্থ দিনের মতো ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তালাবদ্ধ প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ভিসির নির্দেশে বহিরাগতদের মাধ্যমে শিক্ষকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তারা ভিসি অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামের পদত্যাগ এবং হামলাকারীদের শাস্তির দাবি জানান।
এর আগে বুধবার দুপুরে আন্দোলনের সমর্থনে ক্যাম্পাস শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ভিসির অফিস ও বাসভবনসহ প্রশাসনিক বিভিন্ন দফতরে তালা দিয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করেন। এতে ওই দিন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীরা টানা কর্মবিরতি পালন করছেন।
এ ঘটনায় বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা এম এ মুকিত দুমকি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য গোলাম কিবরিয়াকে (২২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
দুমকি থানা পুলিশর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: সেলিম উদ্দিন জানান, মামলার ভিত্তিতে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো: হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বহিরাগতের হামলার বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
চলমান অস্থিরতার প্রশ্নে তিনি বলেন, ভিসি মহোদয় এ বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন। তিনি জেলা বিএনপি, স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে যোগাযোগ করে সুরাহার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. কাজী মো: রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নিয়োগ-পদায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনৈতিক সুবিধা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে।
তিনি হামলার ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



