শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের পরিচয় শুধুই শিক্ষক হওয়া উচিত : ববি হাজ্জাজ

একজন শিক্ষক যেকোনো দল করতেই পারেন, সেটি তার নাগরিক অধিকার। কিন্তু ক্লাসরুমে যেন তার কোনো প্রভাব না পড়ে। শিক্ষার্থীদের মনোজগতে কোনো দলীয় পক্ষপাত তৈরি না করে একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে পাঠদান করা উচিত।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ |বাসস

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকদের পেশাগত সততা ও নিরপেক্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই থাকুক না কেন, ক্যাম্পাসের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের পর তার একমাত্র পরিচয় হতে হবে ‘শিক্ষক’।

তিনি দায়িত্বের জায়গায় শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব বা ‘বায়াসড’ না হওয়ার আহ্বান জানান।

আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘ডিআরইউ ডিবেটিং ক্লাব’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

পেশাগত জায়গায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী নিজের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের এক অনন্য উদাহরণ টেনে ধরেন। ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আমি নিজে ১৭ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছি। এর মধ্যে ১০ বছর সরাসরি একটি রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিলাম। কিন্তু এত বছরের শিক্ষকতা জীবনে কোনোদিন কোনো ক্লাসরুমে আমার শিক্ষার্থীদের সামনে নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে আলোচনা করিনি।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় দায়িত্বের জায়গাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষক যেকোনো দল করতেই পারেন, সেটি তার নাগরিক অধিকার। কিন্তু ক্লাসরুমে যেন তার কোনো প্রভাব না পড়ে। শিক্ষার্থীদের মনোজগতে কোনো দলীয় পক্ষপাত তৈরি না করে একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে পাঠদান করা উচিত।’

তিনি আরো বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকরা যখন রাজনীতি করেন, তখন অনেক সময় এই সীমারেখাটি বজায় থাকে না।’

সাংবাদিক ও শিক্ষকদের কাজের ধরনের তুলনা করে গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষক ও সাংবাদিক উভয়কেই সমাজে দিকনির্দেশকের ভূমিকা পালন করতে হয়। তাই শিক্ষকদের যেমন ক্লাসরুমে নিরপেক্ষ থাকতে হবে, ঠিক তেমনি সাংবাদিকদেরও সংবাদ প্রকাশের সময় ব্যক্তিগত আবেগ ভুলে সম্পূর্ণ যুক্তিনির্ভর ও ফ্যাক্ট-বেসড রিপোর্টিং করা উচিত।

ডিআরইউ’র সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

সভাপতির বক্তব্যে আবু সালেহ আকন বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন এবং সমাজ থেকে অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতি ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নেয়াই ডিআরইউ ডিবেটিং ক্লাবের মূল লক্ষ্য।

এই ক্লাবের মাধ্যমে সাংবাদিকদের যৌক্তিক চিন্তার বিকাশ ও পেশাগত জড়তা কেটে যাবে, যা তাদের মাঠপর্যায়ে শাণিত প্রশ্ন করার সক্ষমতা তৈরি করবে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাংগঠনিক সম্পাদক ও ডিআরইউ ডিবেটিং ক্লাবের আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ জসিম।

বক্তব্য শেষে প্রতিমন্ত্রী ডিআরইউ ডিবেটিং ক্লাবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং তরুণ সাংবাদিকদের যৌক্তিক চিন্তার বিকাশে বিতর্কচর্চা অনন্য ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সূত্র : বাসস