আ’লীগ আমলে গুম হওয়া ২ শিক্ষার্থীর সন্ধান চেয়ে ইবিতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

‘এই গুমের সাথে যারা জড়িত, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এখনো আমরা দেখতে পাচ্ছি, ওই ঘটনায় জড়িতরা স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হব।’

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
গুম হওয়া ইবির দুই শিক্ষার্থীর সন্ধান চেয়ে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ
গুম হওয়া ইবির দুই শিক্ষার্থীর সন্ধান চেয়ে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ |নয়া দিগন্ত

বিগত ফ্যাসিস্ট ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিখোঁজ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মোকাদ্দাসের সন্ধান এবং গুমের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সামনে থেকে মিছিলটি বের হয়। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মেইন গেটে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

এ সময় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী, সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি, কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি ইমরান বিশ্বাসসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, ৫ আগস্টের পর গুম কমিশন গঠন করা হয়েছে। গুম হওয়া অনেকের সন্ধান মিললেও ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মোকাদ্দাস এখনো নিখোঁজ। তাদের পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গভীর ব্যথা নিয়ে তাদের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। আমরা অতিসত্বর তাদের সন্ধান চাই। গুমের সাথে জড়িত সব ব্যক্তি ও তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রক্টরসহ সংশ্লিষ্টদের দ্রুত বিচার করতে হবে। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সমাবেশে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের পর প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মোকাদ্দাসের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তারা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন না; বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকার মানুষেরও হৃদয়ের স্পন্দন হয়ে উঠেছিলেন। তাদের এই জনপ্রিয়তা তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক-কর্মকর্তা ও তৎকালীন ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ সহ্য করতে পারেনি। তাই ষড়যন্ত্র করে প্রশাসনের সহায়তায় তাদের গুম করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই গুমের সাথে যারা জড়িত, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এখনো আমরা দেখতে পাচ্ছি, ওই ঘটনায় জড়িতরা স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হব।’

ইউসুফ আলী আরো বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হলেও এখন পর্যন্ত এর কোনো কার্যক্রম আমরা দেখতে পাইনি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটির কার্যক্রম দৃশ্যমান করতে হবে। আমরা বর্তমান প্রশাসনের কাছে আশা রাখি, তারা কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মোকাদ্দাসের গুমের সাথে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনবে। তাদের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে, আমরা থামব না, ইনশাআল্লাহ।’

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়াগামী হানিফ এন্টারপ্রাইজের ৩৭৫০ নম্বর বাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার পথে আশুলিয়ার নবীনগর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ওয়ালিউল্লাহ ও মোকাদ্দাসকে গ্রেফতার করা হয়। পরে পুলিশ তাদের গ্রেফতারের কথা অস্বীকার করে। এরপর থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।