ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা : রেজিস্ট্রারসহ একাধিক দফতরে তালা

স্থবির বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

‘এভাবে তারা এটা করতে পারেন না। আমাদের অফিসে এসে জোরপূর্বক বের করে দিয়ে তালাবদ্ধ করে দিচ্ছেন। তাদের আন্দোলন সফল হোক সেটা আমরাও চাই। কিন্তু এভাবে জোরপূর্বক কিছু আমরা চাই না।’

মেহরাব হোসেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
প্রশাসনিক দফতরগুলোতে তালা দিয়েছেন শিক্ষকদের একাংশ, স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক কার্যক্রম
প্রশাসনিক দফতরগুলোতে তালা দিয়েছেন শিক্ষকদের একাংশ, স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক কার্যক্রম |নয়া দিগন্ত

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ২৪ জন শিক্ষকের পদোন্নতির দাবিকে কেন্দ্র করে চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। শিক্ষকদের একাংশ ভিসিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে প্রশাসনিক ভবনসহ বিভিন্ন দফতারে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।

সোমবার (১১ মে) সকাল ৯টার দিকে পদোন্নতিবঞ্চিত শিক্ষকরা প্রশাসনিক ভবন-১-এর নিচতলায় অবস্থান নেন। এ সময় তারা ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের বিরুদ্ধে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ এনে তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

এক ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচির পর সকাল ১০টার দিকে শিক্ষকদের একটি অংশ রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে যান এবং রেজিস্ট্রারকে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের পক্ষ থেকে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: হাফিজ আশরাফুল হক ভিসিকে অসহযোগিতা করার নির্দেশ দেন। একপর্যায়ে চাপের মুখে রেজিস্ট্রার তার কার্যালয় ত্যাগ করেন। এরপর কর্মচারীরা একে একে বিভিন্ন দফতরে তালা ঝুলিয়ে দেন।

একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দফতরের পরিচালকের অফিসে গিয়ে তাকে চাপ দেয়া হয় এবং চাপের মুখে তিনি দফতর ছেড়ে বের হয়ে গেলে শিক্ষকদের নির্দেশে কর্মচারীরা দফতরে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে তালা দেয়ার বিষয়ে মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: আব্দুল কাইউম বলেন, ‘আমাদের নির্দেশনায় প্রশাসনিক দফতরগুলোতে তালা ঝোলানো হয়েছে।’

তালা ঝোলানোর সময় সংশ্লিষ্ট দফতরের কয়েকজন কর্মচারী বলেন, ‘শিক্ষকদের নির্দেশনাতেই আমরা তালা ঝুলিয়েছি।’

দফতরে তালা দেয়া ও শিক্ষকদের চাপের বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা। নামপ্রকাশ না করার শর্তে একটি দফতরের প্রধান বলেন, ‘এভাবে তারা এটা করতে পারেন না। আমাদের অফিসে এসে জোরপূর্বক বের করে দিয়ে তালাবদ্ধ করে দিচ্ছেন। তাদের আন্দোলন সফল হোক সেটা আমরাও চাই। কিন্তু এভাবে জোরপূর্বক কিছু আমরা চাই না।’

আন্দোলনকারী শিক্ষক ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. ধীমান কুমার রয় বলেন, ‘আমরা ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। তাকে আমরা প্রশাসনিকভাবে কোনো সহযোগিতা করব না। বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকরা পদত্যাগ করছেন। ইতোমধ্যে তিনজন পদত্যাগ করেছেন। পদোন্নতি বোর্ড বসানোর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও ভিসি বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছেন। তাই আমরা আর তাকে প্রশাসনিক সহযোগিতা করব না।’

শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া এবং কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের বিষয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, ‘সব বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করে এ ধরনের আন্দোলন সমীচীন নয়। কেউ আন্দোলন করলে ব্যক্তিগতভাবে কর্মবিরতি পালন করতে পারে। তবে অন্যের কাজে বাধা দেয়া এবং কাউকে কাজ থেকে বিরত রাখা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত না থাকলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।’