জুলাই শহীদদের স্মরণে জাবি ছাত্রদলের আলোচনা সভা

ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য বলেন, ‘শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। এই আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যাবে না।’

আলোচনা সভা শেষে ফটোসেশন
আলোচনা সভা শেষে ফটোসেশন |নয়া দিগন্ত

জাবি প্রতিনিধি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদল।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা: দেওয়ান মো: সালাউদ্দিন বাবু। প্রধান আলোচক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া। সভা সঞ্চালনা করেন জাবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনীক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা: দেওয়ান মো: সালাউদ্দিন বাবু বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাভার-আশুলিয়ার মানুষের ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। এই আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক অর্জন নয়। শহীদদের আত্মত্যাগকে দলীয়ভাবে ভাগ করার সুযোগ নেই। তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

ছাত্রদলের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘অতীতের দমন-পীড়ন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে মানবিক, গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’

ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। এ আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নতুন পথ খুঁজে পেয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শুধু মেধাবী হলেই হবে না, নৈতিকভাবে আলোকিত মানুষ হতে হবে। মাইক্রোফোনে যা বলা হয়, বাস্তব জীবনেও তার চর্চা করতে হবে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, মানবাধিকার নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমেই জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা দেয়া সম্ভব।’

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের কোনো মাস্টারমাইন্ড ছিল না। ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষের অংশ নেয়াই ছিল এ আন্দোলনের মূল শক্তি।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে ছাত্রদল ইতিবাচক, সহাবস্থানভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতিতে বিশ্বাস করে। হল দখল, গেস্টরুম সংস্কৃতি, সহিংসতা বা সন্ত্রাসের রাজনীতি ছাত্রদল সমর্থন করে না।’

জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে গণরুম, গেস্টরুম, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতনমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে ছাত্রদল কাজ করছে।’

সভায় বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো: সোহেল রানা।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও জাবি ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।