ইবির নতুন ভিসির প্রথম নিয়োগ নিয়েই বিতর্ক, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থী থাকাকালে ফিরোজা নাজনীন প্রথম বর্ষের একটি কোর্সে অকৃতকার্য হন। ওই বর্ষে তার সিজিপিএ ছিল ২.৯৮। এছাড়া একটি কোর্সে ‘ইমপ্রুভমেন্ট’ পরীক্ষায় অংশ নেয়ার পর তার অ্যাকাডেমিক সনদ থেকে ‘ইমপ্রুভ’ শব্দটি বাদ দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

Location :

Kushtia
ইবির নতুন ভিসির প্রথম নিয়োগ নিয়েই বিতর্ক, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ
ইবির নতুন ভিসির প্রথম নিয়োগ নিয়েই বিতর্ক, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ |নয়া দিগন্ত

ইবি সংবাদদাতা

দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসন। অতীতের নিয়োগে বাণিজ্য ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনিযুক্ত ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলেন। তবে নতুন প্রশাসনের প্রথম শিক্ষক নিয়োগ নিয়েই এবার স্বজনপ্রীতিসহ নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭৩তম সিন্ডিকেট সভায় তিনটি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের অনুমোদন দেয়া হয় বলে সিন্ডিকেট সূত্রে জানা গেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগে প্রভাষক পদে বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী ফিরোজা নাজনীন।

তিনি শিক্ষার্থী থাকাকালে প্রথম বর্ষের একটি কোর্সে অকৃতকার্য হয়েছিলেন বলে জানা যায়। এছাড়া তিনি একই বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন জিয়া পরিষদের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ড. জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী। ফলে এ নিয়োগকে ঘিরে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে গত ১৪ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম ভিসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। দায়িত্ব নেয়ার পর শিক্ষক সঙ্কট নিরসনে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। একই সাথে অতীতের বিতর্ক থেকে বেরিয়ে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার প্রত্যাশার কথাও জানান।

এর ধারাবাহিকতায় সোমবার দুপুরে আইসিটি বিভাগের প্রভাষক পদে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রকাশিত ফলাফলে সাতজন নিয়োগপ্রার্থীর নাম দেখা যায়। তাদের মধ্যে বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফিরোজা নাজনীনও ছিলেন।

এদিনই বিকেলে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তাকে প্রভাষক পদে নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থী থাকাকালে ফিরোজা নাজনীন প্রথম বর্ষের একটি কোর্সে অকৃতকার্য হন। ওই বর্ষে তার সিজিপিএ ছিল ২.৯৮। এছাড়া একটি কোর্সে ‘ইমপ্রুভমেন্ট’ পরীক্ষায় অংশ নেয়ার পর তার অ্যাকাডেমিক সনদ থেকে ‘ইমপ্রুভ’ শব্দটি বাদ দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আরো অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থী থাকাকালে দ্বিতীয় বর্ষ থেকেই একই বিভাগের শিক্ষক ড. জাহিদুল ইসলামের সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। যদিও ড. জাহিদুল ইসলাম দাবি করেছেন, তাদের বিয়ে হয়েছে ২০১৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ড. জাহিদুল ইসলাম দুই দফা পরীক্ষা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ফিরোজা নাজনীনের অ্যাকাডেমিক ফলাফলে অস্বাভাবিক পরিবর্তন আনা হয়। এ বিষয়ে অ্যাকাডেমিক অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ড. জাহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘নিয়োগের বিষয়ে আমি বিস্তারিত জানি না। রিটেক বা ইমপ্রুভ কোনো অভিযোগের বিষয় হতে পারে না। এগুলো ডকুমেন্টেড বিষয়। এছাড়া আমি ২০০৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বিদেশে পিএইচডি প্রোগ্রামে ছিলাম। আমাদের বিয়ে হয়েছে ২০১৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর। সে যখন ছাত্রী ছিল, তখন আমি একজন ফ্যাকাল্টি সদস্য হিসেবে একটি কমিটিতে ছিলাম। কিন্তু আমাদের বিয়ের সময় আমি কোনো কমিটিতে ছিলাম না, এমনকি তার কোনো ক্লাসও নিইনি।’

পরীক্ষা কমিটির সভাপতি থাকাকালে স্ত্রীর অ্যাকাডেমিক ফলাফলে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন। আমি একজন শিক্ষক মাত্র। একটি কমিটিতে আরো চারজন সদস্য থাকেন। একজন শিক্ষক কি সব কোর্স পড়ান? সব বিষয়ে নম্বর দেন? বরং আমার সাথে বিয়ে হয়েছে বলে তাকে থিসিস দেয়া হয়নি। এটা সম্পূর্ণ অন্যায় ছিল। মাস্টার্সের বিভিন্ন পরীক্ষাতেও সে কম নম্বর পেয়েছে। ফলে তার মাস্টার্সের সিজিপিএ হয়েছে ৩.৪৬, যদিও অনার্সে ছিল ৩.৫৯।’

অভিযুক্ত প্রার্থী ফিরোজা নাজনীন বলেন, ‘আমি একজন ক্যান্ডিডেট ছিলাম। সার্কুলার অনুযায়ী আবেদন করেছি, সব শর্ত পূরণ করে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। এখন পরবর্তীতে কী হবে, সেটা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনো আমাকে কিছু জানায়নি। তাই এর বেশি কিছু বলতে চাচ্ছি না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি দেখছি। নিয়োগ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আমরা প্রার্থীদের পারফরম্যান্স দেখেই যাচাই করছি। অতীতের অ্যাকাডেমিক ফলাফলও দেখা হয়েছে। অভিযোগসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’