দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই দিনের মধ্যেই শিক্ষার্থী ও কর্মচারীবান্ধব একাধিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) নবনিযুক্ত ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. মো. মো. খায়রুল ইসলাম। হলের পরিবেশ উন্নয়ন থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ, ঈদ উপলক্ষে বিশেষ খাবারের আয়োজন, পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধি এবং কর্মচারীদের উৎসাহিত করতে একাধিক নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন তিনি।
দায়িত্ব গ্রহণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি আবাসিক হল পরিদর্শন করেন। এ সময় হলগুলোর সার্বিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন এবং দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি হল ডাইনিংয়ের খাবারের মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও প্রদান করেন।
শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও অভিযোগ সরাসরি শুনতে একটি নির্দিষ্ট ‘ভিজিটিং আওয়ার’ বা সাক্ষাতের সময় চালুর ঘোষণাও দেন ভিসি। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সহজেই ভিসির সঙ্গে দেখা করে নিজেদের সমস্যা, দাবি ও পরামর্শ তুলে ধরতে পারবেন বলে জানান তিনি।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে হলগুলোতে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থার কথাও জানান নবনিযুক্ত ভিসি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গরু এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য খাসির গোশতের ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া কর্মচারীদের কাজের গতি ও সেবার মান বাড়াতে ‘বেস্ট স্টাফ’ পুরস্কার চালুর পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন ভাইস-চ্যান্সেলর। নিয়মিত ও ভালো কাজের স্বীকৃতি দিতেই এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
শিক্ষার্থীদের ঈদযাত্রা সহজ ও স্বস্তিদায়ক করতে আগামী ঈদুল ফিতর থেকে বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস সার্ভিস চালুর ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। এতে দূরদূরান্তের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ভোগান্তি কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এক কিলো’ সড়ক সংস্কারের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। এ জন্য সিলেট সিটি কর্পোরেশন থেকে বিশেষজ্ঞ টিম এনে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরুর কথা জানিয়েছেন ভিসি।
এছাড়া প্রশাসনিক কার্যক্রমে সময় ও সম্পদ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে তিনি জানিয়েছেন, যেকোনো অনুষ্ঠানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারারের মধ্যে একজন প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এতে সময় ও ব্যয় উভয়ই কমবে বলে তিনি মনে করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গেও মতবিনিময় করেছেন নবনিযুক্ত ভিসি। শিক্ষক কমিউনিটি, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিরাপত্তা কর্মী এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠনের প্রতিনিধিদের সাথে তিনি আলাদা আলাদাভাবে আলোচনা করেন। এছাড়া নবনিযুক্ত ভিসি কসোভোর রাষ্ট্রদূতের সাথেও মতবিনিময় করেছেন। এ সময় দ্বিপাক্ষিক শিক্ষা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেন বলেন, ‘নবনিযুক্ত ভিসি দায়িত্ব নেয়ার পরপরই যেভাবে শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন, তা সত্যিই আশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে হলের খাবারের মান উন্নয়ন, সরাসরি শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলার উদ্যোগ এবং ঈদে হলে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ আয়োজন আমাদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। আমরা আশা করি, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোও দ্রুত সমাধান করবেন।’
ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো: খায়রুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি শিক্ষার্থীবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ শুরু করেছি। শিক্ষার্থীদের সমস্যা দ্রুত সমাধান, আবাসিক হলের পরিবেশ উন্নয়ন এবং তাদের যাতায়াত ও খাবারের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। সবাইকে সাথে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করতে চাই এবং শাবিপ্রবিকে শিক্ষা ও গবেষণায় আরও একধাপ এগিয়ে নিতে চাই।’
এসময় তিনি সকলকে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানান।
নবনিযুক্ত ভিসির এমন ধারাবাহিক উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ও সেবার মান উন্নয়নে এসব পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা।



