পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে

বৈঠকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন সম্প্রসারণের বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও ভাষাগত পারদর্শিতা অর্জনের পাশাপাশি নিয়মিত অভিবাসন প্রক্রিয়াকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কাছে আরো আকর্ষণীয় ও গ্রহণযোগ্য করে তোলার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড মোবিলিটি-বাংলাদেশ সিচুয়েশন’ শীর্ষক বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড মোবিলিটি-বাংলাদেশ সিচুয়েশন’ শীর্ষক বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম |ইউএনবি

সাম্প্রতিক সময়ে ‘বাংলাদেশ-লিবিয়া-ইতালি’ রুটে অনিয়মিত অভিবাসনের সময় ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে কয়েকজন বাংলাদেশীর মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানিয়েছে সরকার।

এই লক্ষ্যে আজ সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড মোবিলিটি-বাংলাদেশ সিচুয়েশন’ শীর্ষক এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এতে পররাষ্ট্র সচিব, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত, লিবিয়া দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত এবং ঢাকাস্থ আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মিশন প্রধান অংশ নেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার অবৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।

তিনি অবৈধ অভিবাসনের সাথে জড়িত অসাধু সিন্ডিকেটগুলোকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আলোচনায় ইতালির রাষ্ট্রদূত জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন চলতি বছরের জুনে রাজনৈতিক আশ্রয় ও অভিবাসন বিষয়ে নতুন বিধিমালা কার্যকর করতে যাচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া আরো কঠিন হয়ে পড়বে।

বৈঠকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন সম্প্রসারণের বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও ভাষাগত পারদর্শিতা অর্জনের পাশাপাশি নিয়মিত অভিবাসন প্রক্রিয়াকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কাছে আরো আকর্ষণীয় ও গ্রহণযোগ্য করে তোলার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, নিয়মিত অভিবাসন সফলভাবে পরিচালনার জন্য গন্তব্য দেশের কর্মসংস্থানের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি নিতে হবে। একইসাথে নিয়োগকর্তাদের সাথে সংযোগ স্থাপন করে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করার মতো অভিবাসন কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে প্রবাসী বাংলাদেশীদের আরো সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে তারা রেমিট্যান্স, বিনিয়োগ, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ ভিশন বাস্তবায়নে আরো বেশি অবদান রাখতে পারেন।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা অবৈধ অভিবাসন রোধ, নিয়মিত অভিবাসনকে উৎসাহিত করা এবং পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়াকে মানবিক, নিয়মিত ও অধিকারভিত্তিক রাখতে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন।

সূত্র : ইউএনবি