ফারাক্কা বাংলাদেশের মতো ভারতের জন্যও অভিশাপে পরিণত হয়েছে : ন্যাপ মহাসচিব

ভারত কখনোই বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য হিস্যা দেবে না। এ বাস্তবতা মাথায় রেখেই বাংলাদেশকে নিজস্ব পানি ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা করতে হবে। অন্যথায় দেশ বড় ধরনের বিপদের সম্মুখীন হবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি |বাসস

ন্যাপ মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, ফারাক্কা বাঁধ শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, এখন ভারতের জন্যও অভিশাপে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশ ফারাক্কার অভিশাপ বয়ে বেড়াচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ ন্যায্য পানির হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সাথে ফারাক্কা ব্যারাজের কারণে ভারতও এখন ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং দেশটিতেও এ বাঁধের বিরুদ্ধে জনমত জোরালো হচ্ছে।

আজ শনিবার ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবসের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ভয়েস অব কনসাস সিটিজেন (ভসিসি)-রংপুর আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।

গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, কলকাতা বন্দরের নাব্যতা ঠিক রাখা এবং ভাগীরথী ও গঙ্গা নদীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ১৯৬১ সালে ভারত সরকার ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ব্যারাজ চালুর পর মালদহ ও মুর্শিদাবাদ এলাকায় নদীভাঙনের মাত্রা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পায়।

তিনি বলেন, নব্বইয়ের দশকে নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নেয় এবং ১৯৯০-২০০১ সালের মধ্যে বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারেও ফারাক্কার কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে এবং প্রতিবছর বন্যা ও নদীভাঙনের শিকার হতে হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, মওলানা ভাসানী অনেক আগেই ফারাক্কার বিরূপ প্রভাব অনুধাবন করেছিলেন। সে কারণেই তিনি জাতীয় স্বার্থে ফারাক্কার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন।

গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, ভারত কখনোই বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য হিস্যা দেবে না। এ বাস্তবতা মাথায় রেখেই বাংলাদেশকে নিজস্ব পানি ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা করতে হবে। অন্যথায় দেশ বড় ধরনের বিপদের সম্মুখীন হবে।

সূত্র : বাসস