গত মাসের ১১ এপ্রিল ছেলের জন্য বিরিয়ানি আনতে গিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন অটোরিকশা চালক শামীম (৪০)। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এক মাস পর রোববার গভীর রাতে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান শামীম। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহতের স্বজনরা মামলা করলে এ ঘটনার সাথে জড়িত বাহুবলী ও রহিত নামে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নিহতের স্ত্রী সুমি আক্তার জানান, তাদের বাসা মিরপুর-১০ বেনারসি পল্লী, পানির ট্যাংকি ১৮ নম্বর লেনে। ১ ছেলে ও ২ মেয়ের মা-বাবা তারা। পেশায় অটোরিকশাচালক শামীম।
গত ১১ এপ্রিল রিকশা চালিয়ে দুপুরে খাবার খেতে বাসায় ফেরেন শামীম। তখন তার ছেলে বিরিয়ানি খেতে চাইলে শামীম আবার বাসার বাইরে যান বিরিয়ানি কিনতে। বেনারসি পল্লীর মসজিদের সামনে বাহুবলিসহ কয়েকজনের সাথে তার তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে শামীমকে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করতে থাকে। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে ঘাতকরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে ফোনে খবর পেয়ে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে ওই দিনই ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে ভর্তি করা হয়
সেখান থেকে পরবর্তীকালে কয়েকটি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। সবশেষ অবস্থার অবনতি হলে গত বৃহস্পতিবার আবার তাকে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করানো হয়। রোববার দিবাগত রাতে সেখানেই তিনি মারা যান।
পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: সোহান মোল্লা জানান, গত মাসের ১১ তারিখ দুপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় শামীমের স্ত্রী ওই সময়ই একটি মামলা দায়ের করেন। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর শামীম রোববার রাতে মারা গেছেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত বাহুবলি ও রহিত নামে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন।


